করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই জন, বরিশালে এক জন, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় দুই জন, নেত্রকোনার মদনে এক জন, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক জন, পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলায় এক জন এবং কুমিল্লার তিতাসে এক জন মারা গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, গতকাল শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সাংবাদিকসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ (জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট) নিয়ে আবু বক্কর (৫০) নামে বিটিভির এক ফটো সাংবাদিকের মৃত্যু হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় লাশ দাফনের পর মৃতের পরিবারসহ চারটি পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবারের বাকি সদস্যদের নমুনাও সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে লতিফ (৬০) নামে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টের কারণে গতকাল দুপুরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন জানান, মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
বরিশাল অফিস জানায়, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মারা যান তিনি। মৃত আব্দুল খালেক খান বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা গ্রামের বাসিন্দা। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সবুজ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাফেজ মো. শামছুল হক (৫৫) ও বাদ মাগরিব কালচো উত্তর ইউনিয়নের মাওলানা আবু তাহের (৪০) নামে দুই জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ছন্দু মিয়া (৬০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর পরই পালিয়ে যায় তার স্বজনরা। মৃত ছন্দু মিয়ার বাড়ি আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের দেবাদ্বর গ্রামে। করোনা পরীক্ষার জন্য লাশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, মতলব দক্ষিণের উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের বাকরা গ্রামে আব্দুল কুদ্দুছ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম কাওছার হিমেল বলেন, ঐ ব্যক্তির পরিবারের অন্য সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, মীর্জাগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মো. মজিবর রহমান (৪৬) নামে এক গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের কিসমতপুর গ্রামের মৃত আজাহার আকনের ছেলে। মৃত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী এবং মেয়ের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হয়।
তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন উপজেলার দক্ষিণ নারান্দিয়া পশ্চিমপাড় গ্রামের মো. কালা মিয়ার ছেলে স্থানীয় পান ব্যবসায়ী মো. সেলিম (৩৫)। শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তার দেহের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।