লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা

পল্টন ও বনানী থানায় তিন মামলা, আসামি ৮৭ জন

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা ও মানব পাচারের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন ও বনানী থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর দুটি করেছে সিআইডি। অপর মামলাটি করেছেন লিবিয়ায় পাচারের শিকার ও নিখোঁজ রাকিবের বাবা মান্নান মুন্সী। গত ২ জুন পল্টন থানায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের এসআই এ এইচ এম রাশেদ ফজলের করা মামলায় স্কাই ভিউ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী হাজী কামালকে প্রধান করে ৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি ও মাদারীপুরে তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পল্টন ও বনানী থানায় দুটি মামলা হয়েছে।

পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এসআই শাহিন উদ্দিন জানান, ‘শরীয়তপুরের মান্নান মুন্সী পল্টন থানায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবে ডিবি পুলিশ।’ গতকাল এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান জানান, ‘মামলাটি মানব পাচার ও সন্ত্রাসবাদ দমন আইনে হয়েছে।’ বাদী মান্নান মুন্সী জানান, ‘গত সাত-আট মাস আগে মোহসিন ও মনির নামে দুই ব্যক্তি তার ছেলে রাকিবকে লিবিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। সেখানে গেলে ভালো বেতন পাবে বলে তারা আশ্বাস দেন। প্রথম দফায় কিছু জমিজমা বিক্রি করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা মোহসিনের হাতে দেন। এরপর রাকিবকে লিবিয়াq পাঠান তারা। কিন্তু সেখানে তাকে জিম্মি করে আরো সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে তাও পাঠান। তবে সেখানে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ছেলে পালিয়েছে। এরপর থেকে রাকিবের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারছি না।’

বনানী থানায় করা মামলার তথ্য দিয়ে ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘সিআইডির এসআই কামরুজ্জামান ২৬ জনকে আসামি করে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলাটি করেন। এতে বনানীর সি ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাড়ির বেঙ্গল টাইগার ওভারসিজের অজ্ঞাতপরিচয় মালিককে প্রধান করে ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।’