করোনাকালে পরিবেশের যে সুন্দর রূপ দেখা গেছে তা আগামী দিনে ধরে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার ‘পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তারুণ্য’ শীর্ষক ওয়েবিনারে (ওয়েব সেমিনার) বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থার তরুণ কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, আমরা দেখছি ঢাকার বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ মার্চের তুলনায় এপ্রিল-মে মাসে ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। ঢাকার চারপাশের নদীতে দ্রবিভূত অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়েছে অনেক। এই ইতিবাচক অবস্থা আমাদের ধরে রাখতে হবে। করোনার পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় অবশ্যই পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।
উপ বন সংরক্ষক আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার তরুণ সমাজকে কাজে লাগানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যারা অবদান রাখছেন তাদের পুরষ্কৃত করা হচ্ছে। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এটা কাজে লাগাতে হবে। অপরদিকে ব্র্যাক এর পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী মন্তব্য করেন, প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার থামাতে না পারলে আমরা বেঁচে থাকতে পারব না।
এরপর বিশিষ্টজনদের মধ্যে প্রথমে বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. সালীমুল হক। তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের ভবিষ্যেক সুরক্ষিত ও সুন্দর দেখতে চাই তাহলে অবশ্যই পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণা সহযোগী রুখসার সুলতানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় ঘাটতি আছে। এখন এদিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।