ব্যক্তিগত পুরস্কারে নিরাসক্ত রোনালদো

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জানিয়েছেন ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে দলকে শিরোপা অর্জনে সাহায্য করাতেই বেশি আগ্রহী তিনি। সম্প্রতি পর্তুগীজ ক্রীড়াদৈনিক রেকর্ডকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এটাও জানিয়েছেন যে শীঘ্রই জাতীয় দলে ফিরছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।

অতিমানবীয় সব নৈপুণ্যের কারণে পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই ব্যক্তিগত সব শিরোপা এসে লুটিয়েছে রোনালদোর পায়ে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী, গেলো বছরেও ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন। সাবেক দল রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে আগের মৌসুম শেষ করা রোনালদো বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন দুর্দান্ত। তবে তিনি নিজে চার গোল করলেও পর্তুগাল বিদায় নেয় দ্বিতীয় পর্ব থেকেই।

এরপর রিয়ালের সঙ্গে ৯ বছরের সম্পর্ক ইতি টেনে ‘নতুন চ্যালেঞ্জ’ এর খোঁজে জুভেন্তাসে পাড়ি জমান। সেখানেও দারুণ খেলছেন তিনি। ২৪ ম্যাচ থেকে করেছেন ১৫ গোল।

তবে এমন পারফর্মেন্সের পরেও টানা তৃতীয় ব্যালন ডি ’অর অধরাই থেকে গেলো তার। ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার ফলে এ বছরের শীর্ষ সব ব্যক্তিগত শিরোপা উঠেছে তার সাবেক ক্লাব সতীর্থ লুকা মদ্রিচের হাতে।

রোনালদো জানালেন এতে মোটেও মনঃক্ষুণ্ন হননি তিনি বরং মনে করেন দলকে সাফল্য পাইয়ে দিতে পারলে এ সব নিজে থেকেই ধরা দেবে। রেকর্ড পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে রোনালদো বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত শিরোপা নিয়ে চিন্তিত নই। সবসময় দলকে সাহায্য করাই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা করতে পারলে বাকি সব স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে।’

রোনালদো আরও বলেন, ‘যখন আমি সে সব জিতি তখন আমি নিজের আনন্দ লুকাই না। কিন্তু পুরস্কার না জিতি তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায় না।’

বিশ্বকাপের পর থেকে সাময়িক বিরতিতে আছেন ফুটবলের বিশ্বআসরে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দেয়া রোনালদো। ‘রেকর্ড’কে দেয়া এ সাক্ষাত্কারে তিনি জানালেন শীঘ্রই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরবেন তিনি। জুভেন্তাস তারকা বলেন, ‘২০১৯ সালে আমি কোচিং স্টাফদের অধীনে ফিরে যেতে চাই।’

রোনালদো জানান,  নতুন দল জুভেন্তাসে মানিয়ে নেয়ার জন্যেই এ বিরতি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোনালদো। এতে ছিল কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের সম্মতিও। তিনি বলেন, ‘সমঝোতা হয়েছিল যে আমি এ মৌসুমের প্রথম অর্ধের ম্যাচগুলোতে থাকব না। আমার বয়স এখন ৩৩। মাত্র এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ায় কাজের পদ্ধতি, সতীর্থ, স্টাফ এবং ব্যক্তিগত সূচি সব পাল্টে গিয়েছিল। সব মিলে আমি মনে করি এটা সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।’

বিশ্বকাপের পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলে এখনও হারের মুখ দেখেনি পর্তুগাল। তিন জয়ের পাশাপাশি ড্র করেছে তিনটি ম্যাচ। উয়েফা নেশন্স লিগের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফার্নান্দো সান্তোসের দল।