স্পোর্টস রিপোর্টার
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে করোনা ভাইরাস সংকটকে সবচেয়ে ভালোভাবে সামাল দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দ্বীপ দেশটিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু হয়েছে। ক্রিকেটীয় কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে। আগামী মাসেই তিন টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ জাতীয় দলের।
টাইগারদের সেই সফরকে নিয়ে ধোঁয়াশা ক্রমেই বাড়ছে। নানামুখি তথ্যের সন্নিবেশে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ২৮ জুলাই কলম্বোর উদ্দেশ্যে বিমানে চড়বে মুমিনুল হকের দল। আবার শ্রীলঙ্কা থেকে এক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সিরিজটা যে কোনোভাবে করতে চায় এসএলসি। তাই জুলাই-আগস্ট না হলেও সেপ্টেম্বরে সিরিজটি খেলার জন্য বিসিবিকে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে এসএলসি।
এখন বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সুবিধার নয়। মূলত এর কারণেই কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না বিসিবি। যদিও বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন সংবাদমাধ্যমকে সম্প্রতি বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিসিবি।
বাংলাদেশের বেসরকারি এক টিভিতে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সবধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেই ২৮ জুলাই লঙ্কা যাবে বাংলাদেশ দল। ক্রিকেটাররা কলম্বো যাবেন চার্টার্ড ফ্লাইটে। কলম্বোয় নতুন একটি পাঁচ তারকা হোটেলে হবে টাইগারদের আবাস। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড নাকি চাইছে বাংলাদেশ দুটি টেস্ট খেলুক কলম্বো ও ডাম্বুলায়। কিন্তু তাতে বিসিবির আপত্তি রয়েছে। বিসিবি চাইছে দুটি টেস্টই কলম্বোতে একই ভেন্যুতে হোক। এবং দর্শকহীন মাঠে খেলা হবে।
করোনা ভাইরাসের কারণে আড়াই মাস ধরে বাংলাদেশে বন্ধ আছে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম। এমনকি সাধারণ ছুটি শেষ হলেও ক্রিকেটাররা একাকী অনুশীলনের অনুমতি পাননি বিসিবির কাছ থেকে। কবে অনুশীলন শুরু হবে, ক্রিকেট মাঠে ফিরবে তার দিনক্ষণ জানা নেই কারো। দ্রুতই ক্রিকেটারদের একাকী অনুশীলনের অনুমতি দিবে বিসিবি। এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান।
এদিকে জাতীয় দলের নির্বাচকরা চান করোনা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতির জন্য ৬ সপ্তাহের বিশেষ ক্যাম্প করতে। ফিটনেস, স্কিল সব বিভাগে লম্বা বিরতির ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এমন লম্বা ক্যাম্প প্রয়োজন।
এতসব চিন্তাকে নতুন করে ধাক্কা দিচ্ছে দেশের করোনা পরিস্থিতি। কারণ করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। খুব দ্রুতই আবার লকডাউনের পদক্ষেপে যেতে পারে সরকার। সংক্রমণের হার দেখে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে রেড, ইয়েলো, গ্রিন জোনে ভাগ করা হবে। সংক্রমণের শুরু থেকেই মিরপুর করোনার হটস্পট। সেখানেই হোম অব ক্রিকেট মিরপুর স্টেডিয়াম। তাই এটা অনুমেয় যে, শতভাগ লকডাউনে মিরপুর গুরুত্ব পাবে অনেক।
আজকালের মধ্যে সরকার নতুনভাবে লকডাউন ঘোষণা করলে ক্রিকেট পুনরায় শুরুর চিন্তায় বিসিবির সব পরিকল্পনাই তিমিরে হারাবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে বিসিবি। আগামী দুই-এক দিনে সরকারের পদক্ষেপ দেখার পরই লঙ্কা সফরের সিদ্ধান্ত আসবে।