মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের (কুমেক) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে স্থাপিত রিয়েল টাইম পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) মেশিনে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ল্যাবে ১০ জনের পজিটিভ ফল ঢাকায় গিয়ে নেগেটিভ হয়েছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেব দাশ দেব এ তথ্য জানান। এদিকে এমন ভুল রিপোর্টের কারণে উপজেলার অন্তত ৭০টি পরিবারে মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বেশ বিতর্কের ঝড় বইছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেব দাশ দেব বলেন, ‘এ হাসপাতালের সাত জন চিকিত্সকসহ ১৪ জনের নমুনা কুমেক ল্যাবে পাঠালে গত ২৩ এপ্রিল পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এতে হাসপাতালটি লকডাউন করি। কিন্তু ঐ রিপোর্ট আমাদের সন্দেহ হওয়ায় তিন দিন পর আক্রান্ত ১০ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠাই। সেখানে পরীক্ষায় ৩ মে ঐ ১০ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এ ছাড়া কুমেকে দুই জনকে নেগেটিভ বলা হলেও ঢাকায় তাদের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ ধরনের রিপোর্টে তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে ভোগান্তিতে পড়েন। অন্য পজিটিভ নিয়েও আমার সন্দেহ রয়েছে। কুমেক ল্যাবের ভুল রিপোর্টের কারণে হাসপাতালটি ১৪ দিন লকডাউন ছিল, এতে উপজেলার ৬ লাখ মানুষ চিকিত্সা বঞ্চিত হন।’
সেন্টার ফর সোশ্যাল সার্ভিসেসের পরিচালক অধ্যক্ষ সায়েম মাহবুব বলেন, ‘ভুল রিপোর্টের ফলে নাঙ্গলকোটের অন্তত ৭০টি পরিবারে মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এমন রিপোর্টে জেলার ১৭ উপজেলার নমুনা পরীক্ষার ফল নিয়েও ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।’
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর বলেন, ‘কুমিল্লায় নমুনা পাঠালে বেশি পজিটিভ আসে। ৫০টি নমুনা পাঠালে অন্তত ১৮-২০ জনের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। অনুরূপ নমুনা ঢাকায় পাঠালে পজিটিভ হয় ৮-১০ জনের।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন মন্তব্য করেন জেলার আরো চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মো. নেয়াতুজ্জামান বলেন, ‘রিপোর্টে ভুল হতেই পারে। তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’ কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ শয্যাসহ ১৫৪ শয্যার ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল চালু হওয়ায় করোনা রোগীর উন্নতমানের চিকিত্সা চলছে।
বর্তমানে এখানে ৬০ জন রোগী ভর্তি আছে। তবে নমুনা পরীক্ষার বিষয়টি আমার অধীনে নেই।’ পিসিআর ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত কুমেক অধ্যক্ষ ডা. মো. মোস্তফা কামাল আজাদ বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহে সতর্ক না হলে অথবা দেরিতে নমুনা জমা দিলে সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায় না। এই পরীক্ষার অন্তত ৩০ ভাগ বদলে যেতে পারে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি নমুনা ভালো থাকে না। আমরা প্রতিদিন দুইটি শিফটে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করতে পারি। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত ৫০০ জনের নমুনা আসছে। এখানে পিসিআর মেশিন ও জনবল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।’