বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে নিম্নচাপ

আম্ফানের পর বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে নিম্নচাপ। মিয়ানমার উপকূলে এটি শক্তি বৃদ্ধি করছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। দক্ষিণা বাতাসে ভর করে প্রচুর জলীয়বাষ্প ঢুকছে। তৈরি করছে বজ্রগর্ভ মেঘমালা। এর প্রভাবে দেশের প্রায় সর্বত্রই ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদীগুলো কিছুটা উত্তাল হওয়ায় গতকাল নদীবন্দরে দেওয়া হয়েছে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত।

এদিকে টানা বৃষ্টির হাত ধরেই আগামী সপ্তাহে দেশে ঢুকবে আষাঢ়। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এই নিম্নচাপ আগাম বর্ষা নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। তাতে দেশে প্রবল বৃষ্টিপাত হবে আষাঢ়ে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশে থেমে থেমে ঝড়-বৃষ্টি চলছে, সঙ্গে চলছে দাবদাহও। কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল দিয়ে ঘটতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন। এখন বৃষ্টি হচ্ছে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে। আজ এবং তারপরের দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ বৃষ্টি হবে।

 বর্ষার আগমন নিয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে তা লঘুচাপের প্রভাবে। তবে খুব শিগিগরই বর্ষা মৌসুমের আবির্ভাব ঘটবে। আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে দেশের টেকনাফ উপকূলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটবে। এরপর এই বায়ু আস্তে আস্তে চট্টগ্রাম হয়ে ভেতরে আসতে শুরু করবে। তিনি জানান, পুরো দেশের ওপর ছড়িয়ে পড়তে চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপর শুরু হবে মূল বর্ষা মৌসুম। আর তখন প্রায় দিনই বৃষ্টি হবে থেমে থেমে।

গতকাল শনিবার আবহাওয়ার এক মাসমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুন মাসের প্রথমার্ধের মধ্যে সারাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু তথা বর্ষা বিস্তার লাভ করতে পারে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক-দুটি মৌসুমি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এ মাসে মৌসুমি বৃষ্টিপাতজনিত কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কতিপয় স্থানে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জুন মাসে ঢাকা বিভাগে ১৫-২০ দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে এ মাসে। এছাড়া মে মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে।