করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দীর্ঘ ছুটির প্রভাবে এরই মধ্যে দেশের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে আগামী বছরও এর প্রভাব থাকবে। ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার (৬২২২ কোটি টাকা) সুদবিহীন জরুরি ঋণ অনুমোদন করেছে আইএমএফ বোর্ডসভা। ৩০ মে এই ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। এর আগে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সংস্থাটি। সম্প্রতি এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়ে বলেছিল, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় বাংলাদেশের। চলতি অর্থবছরও ৮ শতাংশের ওপরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের পর নেমে এসেছে স্থবিরতা। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বেই চলছে মন্দা।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে আইএমএফ উল্লেখ করেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানির গতিও কমে আসবে। চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হতে পারে। আর আমদানি খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়াবে জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশ। সার্বিকভাবে ঘাটতি দাঁড়াবে জিডিপির ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী অর্থবছর আমদানি-রপ্তানি চিত্র কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।
করোনার প্রভাবে রেমিট্যান্সেও বড়ো ধাক্কা আসবে বাংলাদেশের। সংস্থাটির হিসাবে চলতি অর্থবছর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনা না থাকলে যা ১৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারত। ফলে এবার রিজার্ভেও টান পড়বে। করোনার কারণে ব্যক্তি খাতে সঞ্চয় প্রবণতা কমে যাবে। সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমবে।
আইএমএফ উল্লেখ করেছে, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সংস্কার আনার চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, যা বিনিয়োগ বাড়ানোর পূর্বশর্ত। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সরকার তা বাস্তবায়নে কী করছে, তা ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখবে আইএমএফ।