মাওয়া প্রান্তের ১৪ জনের করোনা শনাক্ত

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া প্রান্তের দোগাছির সার্ভিস এরিয়া-১ এর ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একটি বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে গত ২ জুন ১৬৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে ১৪ জনের করোনা পজিটিভ আসে। বাকি ১৪৯ জনের রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। শুক্রবার রাতে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এর মধ্যে দুজন বিদেশি পরামর্শক রয়েছেন। একজন কোরিয়ান নাগরিক সিনিয়র পেন্টিং স্পেশিয়ালিস্ট (৩৫) এবং অপর জন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কেইসি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক (৬৫)। বাকি ১২ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে একজন রয়েছেন নারী। তিনি এক মেটারিয়েল প্রকৌশলীর স্ত্রী। তবে এই ১৪ জনের কারো করোনা উপসর্গ নেই।

এর আগে উপসর্গ থাকায় গত ২৭ মে প্রথম তিন জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে একজন পুরুষ কুকের (৪৫) করোনা পজিটিভ আসে। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাওয়া প্রান্তের সার্ভিস এরিয়া-১ এর সকল সদস্যের করোনা পরীক্ষা করা হয়। সতর্কতার সঙ্গে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল জানিয়েছেন, এই কুক স্থানীয়। সে সার্ভিস এরিয়া-১ এর বাইরেও আসা-যাওয়া করতেন। হয়তো তার মাধ্যমেই অন্যদের করোনা সংক্রমণ হতে পারে। আর তাই সকলের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তিনি জানান, এই কুককে সার্ভিস এরিয়া-১ এর আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

পরবর্তী শনাক্ত ১৪ জন থেকে আরো দুজনকে এই আইসোলেশন সেন্টারে আনা হয়েছে। দুই বিদেশিসহ বাকি ১২ জন সার্ভিস এরিয়া-১ এর স্ব স্ব বাসায় আইসোলেশনে আছেন। পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনোভাবেই যাতে কেউ আইসোলেশন ভঙ্গ না করেন। পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে লোক এসে নমুনা নিয়ে যায় এই পরীক্ষার জন্য।

দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, এতে প্রকল্পের কাজে কোনো ব্যাঘাত হবে না। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর প্রকল্পটিতে আরো সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের অন্য সেক্টরগুলোতেও করোনা টেস্ট করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এদিকে আগামী ১১ জুন সেতুর ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটিতে ৩১তম স্প্যান স্থাপনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির ৫ সহস্রাধিক কর্মীর সবাই সুস্থ আছেন বলে দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন। যাতে কোনোভাবে এখানে করোনা ছড়াতে না পারে সেই ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।