সাধারণত সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের পূর্বে বসবে
মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
জাহানাবাদ সেনানিবাস,খুলনা
শুদ্ধিকরণ (পর্ব ১৩)
৪.বাক্যের পদক্রমজনিত অশুদ্ধি
বাক্যের অন্তর্ভুক্ত পদগুলো উপযুক্ত স্থানে বসানোই পদ সংস্থাপনার ক্রম বা পদক্রম। বাক্যে শব্দের পদবিন্যাসের ওপর বাক্যের অর্থ নির্ভরশীল বলে অনেক সময় কোনো শব্দের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। এ কারণে উপযুক্ত স্থানে সঠিক শব্দ ব্যবহার করা উচিত। কয়েকটি সাধারণ নিয়ম লক্ষ করা যাক :
(ক) সাধারণত বাক্যের প্রথমে কর্তা, পরে কর্ম এবং শেষে ক্রিয়াপদ বসে। যেমন : “শিক্ষার্থীরা বই পড়ে।”
তবে, মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। যেমন :
কবিতা ও গানে : “লহ নমস্কার, সুন্দর আমার।”
বাক্যে জোর দিতে : “বুঝেছি, তুমি ক্ষমতা কতটুকু।”
(খ) সাধারণত সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের পূর্বে বসবে। যেমন : “পাড়ার ছেলেরা খুবই ভদ্র।”
তবে, অর্থসংগতি রক্ষার জন্য বা ছন্দের অনুরোধে সম্বন্ধ পদ পরেও বসতে পারে। যেমন : “হে আদি জননী সিন্ধু, বসুন্ধরা সন্তান তোমার।”
(গ) কারক-বিভক্তিযুক্ত পদ বা অসমাপিকা ক্রিয়াপদ বিশেষণের আগে বসে। যেমন : রাজশাহীর আম খেতে চমত্কার। লোকটি ব্যবহারে খুবই ভদ্র।
(ঘ) বিধেয় বিশেষণ সর্বদাই বিশেষ্যের পরে বসে। যেমন : লোকটি যে দোষী তাতে সন্দেহ নেই।
(ঙ) বহুপদময় বিশেষণ অবশ্যই বিশেষ্যের পূর্বে বসে। যেমন : তার ঢং-করা কথা শুনলে আমার মেজাজ গরম হয়ে যায়।
বাক্যের পদক্রমজনিত অশুদ্ধির কিছু অশুদ্ধ বাক্য শুদ্ধিকরণ :
অশুদ্ধ : আশ্চর্য এমন কথা তো আগে শুনিনি।
শুদ্ধ : এমন আশ্চর্য কথা তো আগে শুনিনি।
অশুদ্ধ : বিরাট গোরুছাগলের হাট।
শুদ্ধ : গোরুছাগলের বিরাট হাট।
(চলবে...)