একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ইভিএম বিষয় প্রশিক্ষণ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সশস্ত্র বাহিনীর ৬৪ জন কর্মকর্তা এবং ২১০ জন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) ও অন্যান্য পদবীর সদস্যদের ইভিএম বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে গতকাল চিঠি দিয়েছে ইসি। চিঠিতে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এজন্য ইসির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু ইসির যে জনবল রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই জনবল দিয়ে স্বল্প সময়ে সীমিত জনবল দিয়ে ইভিএমে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও সারাদেশে প্রচার চালানো প্রায় অসম্ভব। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেক ডিভিশন/অঞ্চল/ঘাঁটির প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তাদের তিন দিন করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইসি। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা তাদের নিজ নিজ ডিভিশন বা অঞ্চলের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেবেন এবং ইসির মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণকে প্রশিক্ষণ দেবেন ও জনসচেতনা তৈরির কাজ করবেন। প্রশিক্ষণের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের শো-ডাউন বন্ধের নির্দেশ: গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো এক চিঠিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হতে জানা যায় যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা জমাদানের সময় মোটর সাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন সহকারে মিছিল এবং শো-ডাউন করা হচ্ছে- যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা-২০০৮-এর ৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বল হয়, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, দলের প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের পক্ষে এ ধরনের মিছিল শো-ডাউন করা যাবে না। এ বিষয়ে আচরণ বিধি প্রতিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। রিটার্নিং এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও এ ধরনের মিছিল ও শো-ডাউনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।