স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
এবার আগেভাগেই যেন বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। দফায় দফায় বৃষ্টির ফলে পদ্মায় বাড়ছে পানি। রাজশাহী মহানগরীর নিচে গড়ে ওঠা পদ্মার চর ডুবতে শুরু করেছে। তবে মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় অবৈধভাবে তোলা বালুর বাঁধে পদ্মার পানির প্রবাহ আটকে আছে। নগরীর তালাইমারী এলাকার এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার পানির প্রবাহ বন্ধ করে তালাইমারী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে মহানগরীর বুলনপুর, পবার শ্যামপুর, নবগঙ্গা ও সোনাইকান্দি এলাকায় একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় গড়ে তোলা ঐ বালুমহালটি জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে গত বছর লিজ দেওয়া হয়নি। এমনকি এ বছরও লিজ দেওয়া হয়নি। শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় এবার মহানগরী ও আশপাশের চারটি ঘাটের একটিও লিজ দেয়নি জেলা প্রশাসন। কিন্তু তারপরেও ঐ ঘাট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত আছে। গত বর্ষায় পদ্মায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পর গত বছরের নভেম্বরে দূরের চর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য পদ্মার মাঝে ইট ও বালু ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ঐ বাঁধ নির্মাণের পর দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে বাঁধটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। এরপর ঐ বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার লোক দেখানো তত্পরতা দেখানো হলেও কয়েক দিন পর আবারও ঐ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ঐ বাঁধের ওপর দিয়ে এখনো বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এই বাঁধের কারণে বাঁধের পশ্চিমে পানি আটকে আছে। ফলে পানি পূর্ব দিকে প্রবাহিত হতে পারছে না। এতে করে পদ্মায় পলি পড়ে আরো বড়ো ধরনের চর পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু বাঁধের ওপর দিয়ে ট্রাকে করে এখনো প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে রাতের আঁধারেই এখন বেশি বালু উত্তোলন হচ্ছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে। জানতে চাইলে একজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লিজ নাই কিন্তু বালু উত্তোলন হচ্ছে এখনো নদী থেকে। বাঁধের কারণে পানি আটকে আছে। আমরা কাজ করছি টাকা নিচ্ছি। এখানে আমাদের কিছু করার নাই।’
এদিকে পদ্মায় বাঁধ দিয়ে লিজ ছাড়াই বালু উত্তোলনের বিষয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজশাহীর সচেতন মহলের মাঝে। এ নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষা ও নদী বাঁচাতে এবার কোনো বালুমহাল লিজ দেওয়া হয়নি। তারপরেও রাতের আঁধারে কেউ কেউ বালু উত্তোলন করছে বলে শুনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এ বিষয়ে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’