আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস
করোনা ধাক্কায় হোঁচট খেয়েছে দেশের রেণু পোনা উত্পাদনের সূতিকাগার যশোরের চাঁচড়ার মত্স্যপল্লি। এতে দেশের মাছের উত্পাদন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মত্স্য বিভাগ বলছে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। তবে ‘লকডাউন’ শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি তাদের ক্ষতি হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণোদনা দাবি তাদের। রেণু উত্পাদনের একবারে ‘পিক সিজনে’ করোনার আক্রমণে মাছের রেণু পোনা উত্পাদনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৈশাখ থেকে শ্রাবণ রেণুর ‘পিক সিজন’ ধরা হয়।
যশোর জেলা মত্স্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান জানান, যশোরের চাঁচড়ার মত্স্যপল্লিতে প্রতি বছর প্রায় ৪০ কোটি টাকার ২ লাখ কেজি রেণু পোনা উত্পাদন হয়—যা দেশের মোট রেণু পোনার চাহিদার ৬০ ভাগেরও বেশি। রেণু পোনায় মাছ চাষ করে যশোর জেলার বার্ষিক ৪৫ হাজার টন মাছের চাহিদা পূরণ হয়েও অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ টন মাছ উত্পাদন হয়। এ থেকে আয় হয় আরো প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এবারও মৌসুমের শুরুতে ফাল্গুন মাসে রেণু চাষিরা আগাম প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু করোনার থাবায় যশোরের ৩৪টি হ্যাচারিতে ভর করে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। বিশেষ করে পোনা উত্পাদনের প্রধান উপকরণ প্রতি পিস হরমোনের দাম এক লাফে আট টাকা থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে। অন্যান্য উপকরণ মেডিসিন, খাবার ও শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে লাগামছাড়া। অথচ দাম নেমে এসেছে অর্ধেকেরও কমে। মাছের প্রকৃতিভেদে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় রেণু পোনার কেজি বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর ভর মৌসুমে এর অর্ধেক দামেও পোনা বিকাচ্ছে না। শতভাগ বিক্রির ভরা মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ হাজার কেজি পোনা বিক্রি হয়েছে। যশোরের হ্যাচারিগুলো রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, বিগহেড, থাইসরপুঁটি, মিরর কার্প, আইড়, তেলাপিয়া, মনোসেক্স তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, কই, থাই কই, পাঙ্গাস প্রভৃতি মাছের পোনা উত্পাদন করে থাকে। হ্যাচারির পাশাপাশি যশোরে ৫-৬ হাজার নার্সারিও রয়েছে। জেলার লক্ষাধিক লোক মাছ উত্পাদন, চাষ এবং সংশ্লিষ্ট পেশার মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে থাকেন।
জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, করোনার কারণে এ বছর রেণু উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। এর বিরূপ পড়বে দেশের পুরো মাছ উত্পাদনে।