ইজিবাইকে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব

বেশি ভাড়ায় বাসে আগ্রহ নেই যাত্রীদের

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুরে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাসে যাতায়াতের আগ্রহ নেই যাত্রীদের। তারা ইজিবাইকে চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এতে ঠাসাঠাসি করে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ইজিবাইকে চলাচলরত যাত্রীদের ক্ষেত্রে মোটেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। নীলফামারীর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলার বিভিন্ন রুটে সীমিত আকারে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। টার্মিনালে বাসের সংখ্যা একেবারে কম। যাত্রীও নেই বললেই চলে।

রুবেল হোসেন (৩৫), সাইমা খাতুন (২৮), বাবর আলী (৪৮) নামের কয়েক জন যাত্রী অভিযোগ করে জানান, সৈয়দপুর থেকে রংপুরের ভাড়া ৫০ টাকার স্থলে ১১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া, বগুড়া যেতে ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

অনেকে প্রয়োজনে বাসে না উঠে ইজিবাইকে মাত্র ৫০ টাকায় রংপুর অথবা দিনাজপুরে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই মানা হচ্ছে না। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। একটি ইজিবাইকে সাত-আট জন করে যাত্রী চলাচল করছেন। বাসেও শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। বাসে নেই জীবাণুনাশক স্প্রে বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সৈয়দপুরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কর্মরত বাবুল মণ্ডল বলেন, ‘বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় যাত্রী কিছুটা কম। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধির কথা বললে রেগে যাচ্ছেন এবং বলছেন আমার ইচ্ছেমতো বাসে বসব। তবে টার্মিনালে হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।’

নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী তোলার জন্য বলা হয়েছে। একটি মিনিবাসে মাত্র ২৫ জন যাত্রী তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। একটু অনিয়ম হলেও এরপর সব তদারকি করা হবে।’ নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহনওয়াজ শানু জানান, করোনাকালে অনেক মালিক সড়কে বাস নামাননি। ফলে বাসের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। যেসব বাস চলাচল করছে সেসব বাসে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।