করোনা দুর্যোগে জেগে উঠেছে পুলিশ

এ এম শিহাবুর রহমান

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে পুলিশের বিচরণ এখন মানবতা ও সেবার ভুবনে। সেবার ইতিহাস দীর্ঘকালের হলেও করোনা দুর্যোগে বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে সেবা ও মানবতা নতুন উদ্যমে আড়মোড়া দিয়ে জেগে উঠেছে। জেগে উঠেছে পুলিশ। সেবার নামে আত্মবলি দিয়ে চলেছে তারা। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আজ সেটাই প্রমাণ করে। আর এ কারণেই একটি বিস্ময়সূচক উক্তির উদ্রেক ঘটেছে ‘পুলিশ কি কেবলই পুলিশ!’

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ বাহিনীর অর্জিত সাফল্য রীতিমতো ঈর্ষণীয়; বিশেষ করে করোনা দুর্যোগে।

করোনায় আক্রান্ত হলে বা আক্রান্ত কেউ মৃত্যুবরণ করলে লাশ ফেলে চলে গেছে স্বজনরা। স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে, সন্তান তাদের বাবা-মাকে পর্যন্ত শেষ কৃত্য সম্পাদনে এগিয়ে আসেনি; কিন্তু পুলিশ কাউকে ফেলে দিতে পারেনি। একজন করোনা আক্রান্ত কিংবা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতের কোথাও ঠাঁই না হলেও ঠাঁই মিলেছে পুলিশের কোলে। পুলিশ হয়েছে তার স্বজন, পুলিশই হয়েছে তার শেষ ঠিকানা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিত্সাকেন্দ্রে নেওয়া, তার সেবা ও সহায়তা, আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ; এমনকি শেষ কৃত্যটাও সম্পন্ন করতে হচ্ছে পুলিশকে। এ ছাড়া জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও সতর্কতা সৃষ্টি এবং সেবা ও মানবতার অংশ হিসেবে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পুলিশ। দৃষ্টান্ত হিসেবে পুলিশ বাহিনীর অনেকের কথাই চলে এলেও স্থানীয় নিবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে চলে আসে স্থানীয় পুলিশের কথা। একজন কর্মকর্তা হিসেবে ধামরাইয়ের ওসি দীপক চন্দ্র সাহার নিষ্ঠা ও ব্যস্ততার ফল হিসেবে এখানকার জনতা পাচ্ছে করোনাকালীন নিরন্তর সেবা। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হ্যান্ডওয়াশ পয়েন্ট দিয়ে সারাদেশের পুলিশ তাদের সেবা কার্যক্রম শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় নানা ধরনের সহায়তা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয় নিজ নিজ উপজেলা ও পৌরসভা জুড়ে।

হাত ধোয়া, হাটবাজারে দোকানপাটের সামনে সামাজিক দূরত্বের চিহ্ন আঁকা, খোলা মাঠে হাটবাজার স্থানান্তর, অতিদরিদ্র ও মধ্যম শ্রেণির মানুষকে খাদ্যসামগ্রী সহায়তা। রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকার হাটবাজার ও অফিস-আদালতের নিরাপত্তা প্রহরী, চৌকিদার-দফাদার, ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ। ইমাম, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া সম্প্রদায়কে খাদ্যসামগ্রী সহায়তা, করোনা আক্রান্তের বাড়িতে লাল পতাকা উড়ানো, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ, রাস্তাঘাটে জিবাণুনাশক ছিটানো, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের বাড়িতে ফলমূল, খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়া ও নিয়মিত যোগাযোগ ও খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে পুলিশ। সারাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও পুলিশের অনুরূপ সেবায় আজ গর্বিত পুলিশ।

করোনা প্রাদুর্ভাবকালে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ ও আত্মোত্সর্গের জন্য দলমত, জাতিধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশ পুলিশ অবশ্যই ধন্যবাদ ও আশীর্বাদ প্রাপ্তির দাবিদার। নিরন্তর সেবা ও ত্যাগের জন্য পুলিশকে ফুলেল অভিনন্দন ও ধন্যবাদ। 

n লেখক :শিক্ষার্থী, এম এস, পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও

প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়