সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান

শক্তিশালী শেয়ারবাজারের জন্য সুশাসন ও স্বচ্ছতা জরুরি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

একটি শক্তিশালী শেয়ারবাজারের জন্য সুশাসন, আইনের কঠোর প্রয়োগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দরকার। একটা করা গেলে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার পাশাপাশি দেশ ভালো শেয়ারবাজার পাবে। এতে ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। এখন দেশের শিল্পের প্রায় পুরোটাই ব্যাংক নির্ভর। শক্তিশালী পুঁজিবাজার হলে ব্যাংক নির্ভর না হয়েও বড়ো বড়ো শিল্প গড়ে উঠবে।

গত শনিবার অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে প্রধান করে সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের যে কমিশন গঠিত হয়েছে তা খুবই শক্তিশালী। এ কমিশনের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। একইসঙ্গে তারা সত্ বলেও মনে করেন রকিবুর রহমান। এ কমিশনের মাধ্যমে শেয়ারবাজার এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আর এ কমিশনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগের কমিশন কোনো কাজ করেনি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

রকিবুর রহমান বলেন, শিবলী রুবাইয়াতের নেতৃত্বে কমিশন বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় কাজ করার জন্য দৃঢ়। তারা এরই মধ্যে ভালো ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি কার্যকরি সভা করেছে। যেখানে তারল্য সংকট সমাধানে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগে আনা ও ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে লভ্যাংশ প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় শিথিলতার সম্ভাবনা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া এই কমিশন বন্ড মার্কেট উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, নবনিযুক্ত কমিশন শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দেবে। এই কমিশন কোনো ধরনের অনিয়মকে ছাড় দেবে না। সে যত বড়োই ক্ষমতা হোক না কেন। এছাড়া সম্মিলিতভাবে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অ্যাকশনে যাবে।

লেনদেন নিয়ে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রকিবুর রহমান। তিনি বলেন, গত ৩ জুন অনেক কম লেনদেন হওয়া নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু এই কম লেনদেন হওয়ার পেছনে আবার লকডাউনের আতঙ্ক ও ফ্লোর প্রাইস কাজ করেছে। যদিও এখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে গত কয়েকদিনের লেনদেনের ৮৭ শতাংশ অনলাইনে হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে এক-চতুর্থাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। চাইলে এ বাজারে ব্রোকারেজ হাউজে না গিয়ে শতভাগ লেনদেন করা সম্ভব। তাই ভবিষ্যতে ব্যাংক খোলা রেখে শেয়ারবাজার বন্ধ রাখা ঠিক হবে না। অতীতে যেটা হয়েছে, সেটা খুবই দুঃখজনক। রকিবুর রহমান বলেন, গত ৯ বছরে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে তা একদিনে কেটে যাবে না। এজন্য সময় লাগবে। বিনিয়োগকারীদেরকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি। আগামী আট মাস থেকে এক বছরের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশাবাদী তিনি।

তিনি বলেন, এখন দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের সুযোগ। যারা ডে ট্রেডার, তাদের কোনো সুযোগ নেই। যারা এক-দুই বছরের জন্য বিনিয়োগ করবেন, তাদের জন্য সুযোগ। তাই সবাইকে বিনিয়োগে আসার এবং সক্রিয় হওয়ার জন্য আহ্বান করব। আপনারা যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করুন।

পৃথিবীর কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূচক ও লেনদেন ওঠানামায় হস্তক্ষেপ করে না বলে জানিয়েছেন রকিবুর রহমান। তবে বিগত কমিশনের সময়ে সেটা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান কমিশন এটা করবে না। তিনি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে অনেক টাকা আছে। তাদের টাকাগুলো ফিক্সড ডিপোজিটে ও বন্ডে চলে যায়। অথচ সেখানে রিটার্ন অনেক কম। মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর অধিকাংশ টাকা এফডিআর। অথচ পৃথিবীব্যাপী মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। আমাদের দেশে বিনিয়োগ করার মতো অনেক ভালো ভালো কোম্পানি আছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানি ১০ শতাংশ ট্যাক্সের সুযোগ দিয়ে অপ্রদর্শিত টাকাকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে ঐ অর্থ বিনিয়োগের জন্য কোনো সেক্টর নির্দিষ্ট করে দেওয়া ঠিক হবে না। সবাইকে সবার সুবিধামতো সেক্টরে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এতে করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়বে। যা শেয়ারবাজারকে গতিশীল করবে।