দক্ষিণ সিটিকে ২৫ হাজার লিটার ওষুধ ধার দিচ্ছে উত্তর সিটি
নিলয় মামুন
বিদেশ থেকে আমদানিকৃত উড়ন্ত মশা মারার কীটনাশক ফরমুলেশন (মিশ্রণ) করতে না পারায় মশক দমনে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। ওষুধ ফরমুলেশন কাজের জন্য ছয় মাস ধরে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করলেও এখন পর্যন্ত তা চূড়ান্ত করতে পারেনি সংস্থাটি। যার কারণে উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ৫০ হাজার লিটার ওষুধ ধার চেয়ে একটি চিঠি দেয়। আর এর মধ্যে ডিএনসিসি ২৫ হাজার লিটার ওষুধ ধার দিতে ফাইল অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা সগীর হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের ফাইল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো ওষুধ নেয়নি।
জানা যায়, গত বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের পর বিদেশ থেকে সরাসরি ওষুধ আমদানি করার অনুমতি দেওয়া হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। এরপর ভারত থেকে ম্যালাথিউন ৫ শতাংশ আমদানি করে ডিএসসিসি। কিন্তু আমদানিকৃত ওষুধটি সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এর সঙ্গে ৯৫ শতাংশ ডিজেল ও ২৫ থেকে ৫০ এমএল সাইট্রোনেলা মিশ্রিত করে নগরীতে ছিটাতে হয়। এজন্য ডিজেল এবং ওষুধের ফরমুলেশন (মিশ্রণ) সঠিক হতে হয়। আর এই কাজটি করার জন্য সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনো প্রযুক্তি নেই। এজন্য দ্বিতীয় পক্ষ দিয়ে কাজটি করাতে হয় সিটি করপোরেশনকে। কিন্তু টেন্ডার জটিলতায় আটকে গেছে ওষুধের ফরমুলেশন কাজ। এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার দক্ষিণ সিটির ভাণ্ডার কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন দিলেও তারা ধরেননি।
মশক নিধনে ডিএসসিসির
বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু
এদিকে গতকাল রবিবার মশক নিধনে ডিএসসিসির বছরব্যাপী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সকালে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে লালবাগ নবাবগঞ্জ পার্কে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় মেয়র বলেন, আগের মশক নিধনের গতানুগতিক কার্যক্রমকে উঁচু থেকে নিচু পর্যন্ত ঢেলে সাজানো হয়েছে। নতুনভাবে গৃহীত এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হলো। এটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে চলবে। প্রতি ওয়ার্ডে আট জন মশককর্মী সকাল ৯টা হতে শুরু করে দুপুর ১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং করবেন।
অন্যদিকে ওয়ার্ড প্রতি ১০ জন মশক ক্রু দুপুর ২টা থেকে শুরু করে বিকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফগিং কার্যক্রম চালাবেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা সরাসরি এসব কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। এ কার্যক্রম যথাযথভাবে চললে আশা করছি আগামী বছর থেকে মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, নগরবাসী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হোক—তা আমরা চাই না। এ কারণেই করোনার এ মহামারির মধ্যেও মশক নিধন কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা এ কাজ চলবে। তিনি বলেন, ১৪ জুন হতে জলাশয় এবং নর্দমা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করা হবে। জলাশয়গুলোতে তেলাপিয়া মাছ চাষের পাশাপাশি পাতি হাঁস পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে জলাশয়গুলো সচল থাকে এবং মশার লার্ভা থাকতে না পারে।