গত কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপও বাড়ছে নগরীতে। এসব রোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ওষুধের দামও। ফার্মেসিগুলো থেকে উধাও হয়ে গেছে জ্বর-কাশির প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ। এমনকি পাইকারি বাজার হাজারী গলিতেও মিলছে না দরকারি ওষুধ। তবে বাড়তি দাম দিলে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, এক পাতা স্ক্যাবো ট্যাবলেটের দাম ছিল ৫০ টাকা। এখন সেই ওষুধের দাম নেওয়া হচ্ছে ৪৫০ থেকে সাড়ে ৬৫০ টাকা। ১ হাজার এমএল স্যাভলন ২২০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। মোনাস ১০ মিলিগ্রাম প্রতি প্যাকেট (২ পাতা) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকায়, যার বাজারমূল্য ৪৮০ টাকা এবং অ্যাজিথ্রোসিন ৫০০ মিলিগ্রাম প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, যার বাজারমূল্য ৩১৫ টাকা। এছাড়া সিভিট ২৫০ মিলিগ্রাম প্রতি পাতা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যার বাজারমূল্য ২০ টাকা। ফার্মেসিতে ওষুধ কেনার পর বিক্রির রসিদও দেওয়া হচ্ছে না।
তবে ফার্মেসি মালিকেরা জানান, গত কিছুদিন ধরে প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল, ভিটামিন সি ট্যাবলেট ও অ্যাজিথ্রোমাইসিনজাতীয় ওষুধের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এসব ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্যাব নেতারা জানিয়েছেন, বাড়তি লাভের আশায় একটি সুযোগসন্ধানী মহল কৃত্রিমভাবে ওষুধের দাম বাড়িয়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ অবৈধভাবে মজুত করে চড়া দামে বিক্রির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। গত তিন দিন ধরে নগরীতে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টানা অভিযান। গত শুক্রবার নিয়মিত দামের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করার দায়ে নগরীর ইপিজেড ও বন্দর এলাকায় তিন ফার্মেসি মালিককে আটক করা হয়। গতকাল চট্টগ্রামে ওষুধের পাইকারি বাজার হাজারী গলিতে চার জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বিকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অভিযান চলছিল।
এদিকে চট্টগ্রামে ওষুধের দাম বাড়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভুঁইফোঁড় চিকিত্সকের মনগড়া ব্যবস্থাপত্রকে অনেকে দায়ী করেছেন। অনেকে বুঝে বা না বুঝে ওষুধ কিনতে ফার্মেসির দিকে ছুটছেন। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হূদেরাগ বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. লক্ষ্মীপদ দাশ বলেন, করোনার চিকিত্সা একটি গাইডলাইন অনুসারে চলে। কিন্তু অনেকে স্ক্যাবো ট্যাবলেট ও ডক্সিসাইক্লিন ক্যাপসুলসহ নানা ওষুধ ফার্মেসি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব ওষুধ করোনা ভাইরাসের চিকিত্সায় কার্যকর বলে এখনো প্রমাণিত হয়নি।
গতকাল কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফার্মেসির মালিকেরা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে ডাকাতি শুরু করেছেন। নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন করোনার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি ওষুধ। পৃথক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষাসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।