প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস আজকে সবার জীবনযাত্রা স্থবির করে দিয়েছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বে এই সমস্যা। আমি আশা করি, আমাদের দেশের প্রত্যেকটা মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ম মেনে চলবেন। ইনশাআল্লাহ এখান থেকে আমরা মুক্তি পাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।’
গতকাল রবিবার ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধারণকৃত অনুষ্ঠানটি গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় বিটিভিতে প্রচারিত হয় এবং রাত ১০টার মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে দেশের অন্যান্য সম্প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা আন্দোলনের জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। যে কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে সেই সময় পাকিস্তানি শাসকদের হাতে শ্রমিকনেতা মনু মিয়া, আবুল হোসেন, শফিক সামছুলসহ যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমি তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’ ৬ দফা কেন দেওয়া হয়েছিল সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই দাবি উত্থাপন করেছিলেন। এর একটা পটভূমি আছে। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধের সময় দেখা গেল, আমার পূর্ববঙ্গ অর্থাত্ তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এই প্রদেশকে রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা তখন পাকিস্তানি শাসকরা নেয়নি। যেন ভারতের দয়ার ওপর আমরা পড়েছিলাম।’ তিনি আরো বলেন, এই যুদ্ধের পর একটি গোলটেবিল বৈঠক ডাকা হয় লাহোরে। সর্বদলীয় বিরোধী দল এই বৈঠক ডাকে। সেখানে জাতির পিতা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেখানে যান। সেখানে তিনি এই ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। যে দাবির মূল বক্তব্য ছিল—প্রদেশ হিসেবে এই দেশের মানুষকে সুরক্ষিত করা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নতি ও প্রতিরক্ষার দিক থেকে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধুই নন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে তখন আন্দোলন শুরু হয়। ১৩ মে প্রতিবাদ সভা হয়। এরপর ১৬, ১৭, ১৮ প্রতিদিনই প্রতিবাদ চলতে থাকে। তিনি আরো বলেন, ৬ দফা দাবিটা জনগণ লুফে নিয়েছিল। এটা তারা নিয়েছিল বাঁচার অধিকার হিসেবে এবং মূলত তা-ই ছিল। এদেশের মানুষ ৬ দফাকে শুধু দ্রুত সমর্থনই করেনি, স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে তারা নিজেদের দাবি হিসেবে নিয়েছিল। ৬ দফা বাংলার মানুষের মুক্তির দাবি হিসেবে সকলের সামনে উদ্ভাসিত হয়েছিল। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তান সরকার বসে ছিল না। নানাভাবে নির্বাচন ও চক্রান্ত করতে থাকে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একের পর এক গ্রেফতার করতে থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষও আরো বেশি সচেতন, সুসংগঠিত হতে থাকে। অবশ্য কিছু দালাল ছাড়া। সব সময় কিছু দালাল থাকে এটাই সমস্যা। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। মামলাটি রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব। মামলার মূল অভিযোগ ছিল যে, আসামিরা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, এই মামলার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ আবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ল। সেই সময় গণ-অভ্যুত্থান হলো, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করল। এই সংগ্রামের ফল হলো আইয়ুব খান একপর্যায়ে বাধ্য হলো এই মামলা প্রত্যাহার করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।