সরকারি ওয়েবসাইটে গোটা দেশটাকে তিন জোনে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো আলামত নেই। শুধু মুখে মুখেই লকডাউনের কথা বলা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলরা লকডাউনের এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাননি। তারা বলছেন, নির্দেশনা না পেলে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না।
করোনা প্রতিরোধ সহায়ক এই ওয়েবসাইটটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), সরকারের এটুআই প্রকল্প, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে সর্বশেষ আপডেট হিসেবে এই তালিকা দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশের লকডাউন এলাকার তালিকা। ‘গ্রিন, ইয়েলো এবং রেড জোন’- এই তিন ভাগে ভাগ করে তালিকা প্রকাশ করা হলেও এসব জোনের নাগরিকদের জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ওয়েবসাইটে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন) দেখানো হয়েছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন) দেখানো হয়েছে দেশের পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি জেলা এবং ৭৫টি উপজেলা। ঢাকা মহানগরীর ৩৮টি এলাকাকে আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন) হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে লকডাউন নয় (গ্রিন জোন) বলে দেখানো হচ্ছে ১১টি এলাকাকে। ঢাকায় পুরোপুরি লকডাউন বা রেড জোন এলাকা দেখানো হয়নি।
রেড জোনের মধ্যে থাকা পিরোজপুরের ডিসি আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। হয়ত উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ওয়েবসাইটের তালিকা অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন- বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন ভোলা ও ঝালকাঠি। চট্টগ্রাম বিভাগে পুরোপুরি লকডাউন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি। ঢাকা বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন- গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইল। এই বিভাগে শুধু ঢাকা ও ফরিদপুর আংশিক লকডাউন। খুলনা বিভাগের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা, মেহেরপুর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা পুরোপুরি লকডাউন। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও মাগুরা। খুলনা বিভাগেই দেশের একমাত্র গ্রিন জোন চিহ্নিত জেলা ঝিনাইদহ।
রাজশাহী বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ। রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব কয়টি জেলা পুরোপুরি লকডাউন।
পুরোপুরি লকডাউনের তালিকায় থাকা চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পাননি।
এদিকে ঢাকা মহানগরীতে রেড ডোনে কোনো এলাকা নেই। তবে ৩৮টি এলাকাকে ইয়লো জোনে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো- আদাবর থানা, উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, ওয়ারী, কদমতলী, কলাবাগান, কাফরুল, কামরাঙ্গীরচর, কোতোয়ালি, খিলক্ষেত, গুলশান, গেন্ডারিয়া, চকবাজার, ডেমরা, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, দক্ষিণখান, দারুসসালাম, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, পল্টন মডেল, পল্লবী, বংশাল, বাড্ডা, বিমানবন্দর, ভাটারা, মিরপুর মডেল, মুগদা, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, রমনা মডেল, লালবাগ, শাহআলী, শাহজাহানপুর, শেরেবাংলা নগর, সবুজবাগ, সূত্রাপুর ও হাজারীবাগ থানা এলাকা। আর গ্রীন জোনে থাকা ১১টি এলাকা হলো- উত্তরখান থানা, ক্যান্টনমেন্ট থানা, খিলগাঁও, তুরাগ, বনানী, ভাষানটেক, মতিঝিল, রামপুরা, রূপনগর, শাহবাগ ও শ্যামপুর থানা এলাকা।