দেশে করোনার বিস্তার ঠেকাতে নতুন করে লকডাউন নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী সিদ্ধান্ত আসার আগেই ওয়েবসাইটে সারাদেশকে রেড, ইয়লো ও গ্রিণ জোনে ভাগ করে তালিকাও প্রকাশ করা হয়। কিন্তু দায়িত্বশীলরা কেউ জানেন না। যদিও গতকাল বিকেলে সেই তালিকা ওয়েবসাইট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন রাজধানীর টোলারবাগ মডেলে লকডাউন করতে যাচ্ছে সরকার। পুরো এলাকা জুড়ে নয়, যে বাড়িতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে সেই বাড়িকে ঘিরে আশপাশের কিছু বাড়ি মিলিয়ে লকডাউন করা হবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘তালিকাটি ওয়েবসাইটে কিভাবে গেল, কারা দিল? সেই বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। যারাই দিক এভাবে তালিকা দেওয়া ঠিক হয়নি। এটা তদন্ত করে বের করা হবে।’
জানা গেছে, রাজধানীর টোলারবাগকে একটি মডেল ধরে সারাদেশের একটি তালিকা করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, বনানীর কড়াইল বস্তিতে যদি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে তাহলে গুলশান-বনানী নয়, শুধু ওই বস্তিটা লকডাউন করা হবে। এবং সেটা কঠোরভাবে করা হবে। যাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
বিশেষজ্ঞদের তৈরী করা একটি মডেল বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রয়েছে। সেখান থেকে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। ভালো-মন্দ সবদিক বিচার বিশ্লেষনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
জানা গেছে, corona.gov.bd নামে ওই ওয়েবসাইটটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), সরকারের এটুআই প্রকল্প, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে করোনার সর্বশেষ আপডেট দেওয়া হয়। সেখানেই প্রকাশ করা হয়েছিল লকডাউনের তালিকা। সারা বাংলাদেশের লকডাউনের চিত্র- নামে গোটা দেশটাকে তিন জোনে ভাগ করে দেওয়া হয়। অথচ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলরা লকডাউনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি। তারা বলছেন, নির্দেশনা না পেলে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না।
ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ি, দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন) দেখানো হয়েছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন) দেখানো হয়েছে দেশের পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি জেলা এবং ৭৫টি উপজেলা। ঢাকা মহানগরীর ৩৮টি এলাকাকে আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন) হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে লকডাউন নয় (গ্রিন জোন) বলে দেখানো হচ্ছে ১১টি এলাকাকে। ঢাকায় পুরোপুরি লকডাউন বা রেড জোন এলাকা দেখানো হয়নি।
রেড জোনের মধ্যে থাকা পিরোজপুরের ডিসি আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। হয়ত উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খানও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পুরোপুরি লকডাউনের তালিকায় থাকা আরেকটি জেলা চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানও বলেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পাননি।