নারীর পথ চলা হোক প্রতিবন্ধকতামুক্ত

নতুন বছর আসুক নিয়ে নতুন নতুন স্বপ্ন-আশা, পৃথিবীর সর্বত্রই ছড়িয়ে দিক ভালোবাসা ও প্রশান্তি। নতুন বছরের, নতুন দিনের শুভ আগমনে সকলের মন থেকে দুঃখ-কষ্ট, রাগ-অভিমান, হিংসা-বিদ্বেষ, জরাজীর্ণতা সব মুছে যাক। নতুন বছরের প্রতিটি দিনের উদীয়মান সূর্য নিয়ে আসুক আনন্দের আগমনী বার্তা।

নতুন বছরের আগমনে প্রকৃতিও জানান দেয় নতুন কিছু আশা, প্রত্যাশা, কর্তব্য ও দায়িত্বের দায়ভার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে। তাই তো পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে নবরূপে বরণ করে নিতে হবে নতুনত্বের ধারায়। ভুলে যাওয়ায় মানুষের স্বভাব। সেজন্যেই পুরাতন বছরের জরাজীর্ণ দিনগুলোকে ভুলে গিয়ে নতুন বছরকে সকল কিছুর শুভ সংকেত হিসেবে আমাদের গ্রহণ করতে হবে। নতুন বছরে পদার্পণের মধ্যে দিয়ে নতুন উদ্যম এবং আকাঙ্ক্ষায় নতুনকে  বরণ করে নেওয়া।

সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীরা নিজেদের কৃতিত্ব দেখতে সক্ষম হলেও যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না; প্রতি পদে পদে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়তই। খবরের কাজ খুলতেই চোখে পড়ে যৌতুক কিংবা নারীর প্রতি সহিংসতা—শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। এসব ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। আমাদের সকলের জন্য এ ধরনের ঘটনা খুবই নির্মম এবং কষ্টদায়ক।

নারীর ক্ষমতায়ন হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক কুসংস্কারের জন্য পিছিয়ে আছে। কর্মক্ষেত্রে এখনো নারীদের সঙ্গে  আপত্তিকর আচরণ করতে দেখা যায়। নারীরা যেন কেবল অন্দরমহলে থেকে স্বামী-সংসার ও সন্তান লালন-পালনের জন্যই জন্মেছেন। পুরুষশাসিত সমাজকে এসব ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকা অনুস্বীকার্য। নারীরা যেমন একহাতে ঘর-সংসার সামলাতে পটু, তেমনি অন্যহাতে ঘরের বাইরেও পুরুষের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে পারে নির্দ্বিধায়। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার দোহাই দিয়ে নারীকে ঘরে আটকে না রেখে দেশের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি ভূমিকা রাখতে সুযোগ দিতে হবে। সকল প্রকার কুসংস্কার ও গোঁড়ামি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে পারলেই পুরো জাতিই সফলতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছাবে ।

সুতরাং নতুন বছরে এসব কুসংস্কার ও কলুষতা থেকে সমাজ মুক্ত হবে—সেই প্রত্যাশায় ব্যক্ত করছি, যাতে নারীর পথ চলা হয়  সহজ ও প্রতিবন্ধকতামুক্ত ...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়