উহানের সাথে সরাসরি ফ্লাইট আর ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি শহরে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস - প্রথম দিকে মনে হয়েছিল তাইওয়ানের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাইওয়ানে কোভিড-১৯ এ মারা গেছে মাত্র ৭ জন। আর তারা কখনো পুরোপুরি লকডাউনেও যায়নি।
এই সাফল্যের জন্য তাইওয়ানের নেতারা মানুষের মাস্ক পরার প্রবণতাকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন, তবে মাস্কের কার্যকারিতা তারা ব্যাখ্যা করছেন একটু অন্যভাবে। তাইওয়ানের ডিজিটাল মন্ত্রী অড্রে ট্যাং বলেন, ‘মাস্ক প্রথমত, আপনাকে হাত ধুতে অনুপ্রাণিত করবে, দ্বিতীয়ত, আপনাকে মুখে হাত দেওয়া থেকে থামাবে - এগুলো হচ্ছে মাস্ক পরার মূল উপকারিতা।’
১৯৫০-এর দশক থেকে তাইওয়ানের মানুষ মাস্ক পরে আসছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর হঠাত্ করেই বেড়ে গেছে মাস্কের চাহিদা। চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেড়ে যায় মাস্কের উত্পাদনও। আগে যেখানে দিনে ২০ লাখ মাস্ক তৈরি হতো, সেখানে ২ কোটি মাস্ক তৈরি হতে লাগলো।
এরপর কাজ শুরু করে তাইওয়ানের হ্যাকিং কমিউনিটি, যাদের সাথে বেশ কয়েকবছর ধরে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে দেশটির সরকার। বিভিন্ন এলাকার মাস্ক বিক্রেতাদের আপডেট করা তথ্য নিয়ে তারা ‘মাস্ক ম্যাপ’-এর সিরিজ তৈরি করা শুরু করে। এর ফলে নাগরিকরা জানতে পারতেন তাদের বাসা বা কর্মস্থলের কাছে কোথায় মাস্ক পাবেন তারা। কোন দোকানে কতগুলো মাস্ক আছে, পাওয়া যেতো সেই তথ্যও।
হ্যাকারদের তৈরি ম্যাপগুলো যত জনপ্রিয়তা পেতে থাকে, আরো হ্যাকারদের দল একত্রিত হয়ে সেইসব ম্যাপে আরো ফিচার যোগ করে মানুষের ব্যবহারের জন্য সেগুলো সহজ করে তুলতে থাকে। এখন পর্যন্ত এক কোটির বেশি মানুষ ম্যাপগুলো ব্যবহার করেছে। আর অড্রে ট্যাংয়ের মতে, এই প্রকল্পের সাফল্য প্রতিফলিত হয় মানুষের মাস্ক ব্যবহারের মাত্রায়। তাইওয়ানের খুব কম সংখ্যক মানুষই আছে যারা মাস্ক ব্যবহার করে না। মিজ ট্যাং বলেন মাস্ক ব্যবহার করার জন্য তাওয়ানের মানুষ একরকম ‘সামাজিক চাপ’ এর মধ্যে থাকেন। ‘এই প্রথমবার হ্যাকাররা নিজেদের একটা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টের ডিজাইনারের রূপে দেখতে পাচ্ছে। তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ তাদের জনগণকে এত বিশ্বাস করে যে, প্রতিদানে জনগণও সরকারকে কখনো কখনো বিশ্বাস করে।’
সূত্র : বিবিসি