ভোক্তাদের জন্য গত বছর ছিল স্বস্তির। পেঁয়াজ ও সবজির দাম বৃদ্ধি অস্বস্তিতে ফেললেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি বললেই চলে। শুধু তাই নয় নতুন বছরের শুরুটাও হয়েছে স্বস্তি দিয়ে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন কম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর দেশে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। ধান, আলুসহ সব ধরনের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বছরজুড়ে সারাদেশে নায্যমুল্যে চাল বিক্রি ও অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির কর্মসূচি বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া গত বছর খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল ছিল। চাল, গম, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ছিল নিন্মমুখী। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে গত এক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এরমধ্যে চিনির দাম কমেছে ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ট্রেডিং ইকনমিকসের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর সয়াবিনের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর পাম তেলের দাম কমেছে ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী উত্পাদন বাড়ায় কমেছে চালের দামও। ট্রেডিং ইকনমিকসের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর চালের দাম কমেছে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এফএওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫১৩ মিলিয়ন টন চাল উত্পাদন হয়। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। গত বছর গমের উত্পাদন কম হওয়ায় বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৯ দমমিক ৫৪ শতাংশ। দেশের বাজারে আটার দাম না বাড়লেও ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে দু’একটি পণ্যের দাম বাড়লেও গত বছর সার্বিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজার ছিল স্বস্তির।
গত নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৫ ভাগের নিচে বেধে রাখা সম্ভব হয়েছে। নভেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে রয়েছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৪০ ভাগ। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। কারণ কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি বরং দাম কমেছে। পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি সেসব পণ্যের দাম বাড়েনি।
এদিকে নতুন বছরও ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি দিয়ে শুরু হচ্ছে। কারণ, গত বছর ১ জানুয়ারির তুলনায় চলতি বছর এই দিনে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই কমেছে। টিসিবির হিসেবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় চলতি বছর সরু চালের দাম ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, মাঝারিমানের চাল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, মোটা চাল ১১ দশমিক ১১ শতাংশ, ভোজ্যতেলের দাম ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ, মসুর ডাল ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, মুগ ডাল ১৬ শতাংশ, আলু ১৪ শতাংশ, পিঁয়াজ ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ, চিনি ৪ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে। তবে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ময়দা, রুই, ইলিশ মাছ ও দেশী মুরগী। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় পণ্যগুলো যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।