কুমিল্লায় পিসিআর ল্যাব
প্রতিদিন পরীক্ষার ক্ষমতা ১৮০, আসছে ৫০০
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের (কুমেক) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে স্থাপিত ল্যাবের রিয়েল টাইম পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) মেশিনে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে উপসর্গের রোগীরা উত্কণ্ঠার মধ্যে পড়েছেন। গত শনিবার এক বেলা সীমিতসংখ্যক পরীক্ষা হলেও ল্যাব পরিষ্কারের কথা বলে রবিবার পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। এদিকে কিট সংকটে পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটায় সংগ্রহ করা নমুনার জট লেগে যাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় ল্যাবে পিসিআর মেশিন ও জনবলের সংকটের কারণে নমুনা পরীক্ষার চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগী। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ল্যাব সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কুমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. কান্তি প্রিয় দাশ বলেন, ‘গত ২৯ এপ্রিল থেকে ল্যাবে একটি মাত্র পিসিআর মেশিনে করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে আমরা প্রতিদিন দুইটি শিফটে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করতে পারি। কিন্তু ৬০ লক্ষাধিক জনসংখ্যার এ জেলায় প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন অন্তত ৫০০ জনের নমুনা আসছে। ফলে এই ল্যাবে একটি মেশিনে নমুনা পরীক্ষার চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। ল্যাবে অনেক নমুনা জমা আছে। আগে আমরা ৭ হাজার কিট পেয়েছিলাম। পরীক্ষার সময় নানা কারণে প্রায় ১০ শতাংশ কিট নষ্ট হয়ে যায়। তবে এখানে চাহিদা অনুযায়ী পিসিআর মেশিন ও জনবলের সংকট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।’
কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কিটের সংকটে গত শনিবার থেকে নমুনা পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটে। জেলা ও উপজেলার সবখানের মানুষ নমুনা দিতে গিয়ে ফিরে গেছে। জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে ২০টি করে নমুনা এলে ৩৪০টি নমুনা হয়। সিটি করপোরেশন থেকে নমুনা আসে ৫০টি। সব মিলিয়ে অন্তত ৩৯০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কুমেক ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা মাত্র ১৮০টি। অবশিষ্ট নমুনা পরের দিন পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু পরের দিন আরো নমুনা আসে। এভাবে জট লেগে যাচ্ছে। তবে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নমুনা ২৪ ঘণ্টার বেশি ভালো থাকে না।’ কুমেক অধ্যক্ষ ডা. মো. মোস্তফা কামাল আজাদ বলেন, ‘ল্যাবটি চালুর পর পরিষ্কার করা হয়নি। তাই নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রেখে গত রবিবার পরিষ্কার করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার এক বেলা কাজ হয়েছে। তবে এখন পর্যাপ্ত কিট পাওয়া গেছে, নমুনা পরীক্ষা পুরোদমে চলছে। রোগী বাড়ছে। তাই ল্যাবে আরো একটি পিসিআর মেশিন এবং জনবল প্রয়োজন, সহসা পাওয়া গেলে সমস্যা কেটে যাবে। এ নিয়ে উত্কণ্ঠার কোনো কারণ নেই।’
উল্লেখ্য, জেলায় সোমবার (৮ জুন) পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন ৪৩ জন।