দুর্ভোগ চরমে
শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
শরণখোলায় জোয়ারে দিনে দুই বার ভাসছে সাউথখালীর বগী-গাবতলার চার শতাধিক পরিবার। বলেশ্বর নদীর জোয়ারের পানি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে ঢুকে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। বসতঘরের মধ্যে হাঁটু পানি। মানুষের রান্নাবান্না হয় না। গ্রামবাসীর দুর্ভোগ চরমে। সরেজমিনে শুক্রবার দুপুরে সাউথখালী, বগী, গাবতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাচ্ছে। এসময় গাবতলা গ্রামের মোহাম্মদ খান, কামাল হাওলাদার, বগী সাতঘর গ্রামের আবু সাইদ হাওলাদার, কালাম হাওলাদার, ফুলমিয়া হাওলাদারসহ ভুক্তভোগীরা জানান, তারা প্রতিদিন দুই বার জোয়ারের পানিতে ভাসেন। ঘরের মধ্যে পানি উঠে যায়। চুলায় পানি ওঠায় অনেকের বাড়িতে দুপুরে রান্নাবান্না হয় না বলে জানালেন বগী গ্রামের মাহাবুল হাওলাদার। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাঁধের আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের কোনো খবর নেই। এখন পানিতে ডুবে মরতে হচ্ছে আমাদের। বগী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রিয়াদুল পঞ্চায়েত ও দক্ষিণ সাউথখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন জানান, গাবতলা ও বগী গ্রামের চার শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগের শেষ নেই। জোয়ারের পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। আম্ফানের পর এ পর্যন্ত চার দফা গ্রাম তলিয়েছে। নদী পাড়ের চার সহস্রাধিক মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত বাঁধের কাজ শুরুর দাবি জানান। সাউথখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, নদী শাসন ছাড়া বেড়িবাঁধ কোনো কাজে আসবে না, বলেশ্বর নদীর জোয়ারের পানিতে বগী গাবতলা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত ডুবছে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ভাঙনকবলিত বগী-গাবতলার দুই কিলোমিটার রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শিগগির শুরু হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের পানি ঠেকানোর লক্ষ্যে আপাতত রিং-বাঁধ তৈরির জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগির কাজ শুরু হবে।