বৃক্ষ

গামারি

 

সবুজ ও ঘনপাতা বিশিষ্ট, দ্রুত বর্ধনশীল পত্রঝরা বৃক্ষ। গামার, গাম্বার, গাম্ভারি, তারকাঠ, গাম্ভারিকা ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। সংস্কৃত নামগুলো হলো মধুমতি, গাম্ভারি, সিন্ধুপর্ণী, ভাদ্রাপর্ণী, গামহার ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম Gmelina arborea, এটি Lamiaceae পরিবারের বৃক্ষ।

আদি নিবাস ভারতবর্ষ ও মিয়ানমার। বাংলাদেশসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় জন্মে। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় বেশি দেখা যায়। 

এই গাছ লম্বায় ১৫ থেকে ৩৫ মিটার উঁচু হয়। গাছের প্রশাখা ও কুঁড়ি রোমশ। বাকল সাদা বা উজ্জ্বল ধূসর। পাতা পানপাতার মতো, ২০ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। পাতার ওপরটা উজ্জ্বল সবুজ, নিচটা পাণ্ডুর, বোঁটা ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা। শীতে পাতা ঝরে। অত্যধিক খরা সহনশীল। বসন্তকালে পাতাহীন ডালে ডালে দেখা যায় গাঢ় হলুদ বরণ ফুল। ফুলের অনেক মিষ্টি গন্ধ। ফুল ৩ থেকে ৩.৫ সেন্টিমিটার লম্বা, দুই ভাগে বিভক্ত। এর পুষ্পমধু ভোমরাদের খুবই প্রিয়। গামারির ফল দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকৃতির, ফলে একটি-দুটি বীজ হয়। ফল ৩ সেন্টিমিটার চওড়া, শাঁসালো, পাকলে হালকা হলুদ হয়। শীতের পর ফুল এবং তার দুমাস পর ফল হয়। ফুল ও ফলের ছবিটি ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র তীরের কাচারীঘাট এলাকা থেকে তুলেছিলাম। 

কাঠ হলুদ, খানিকটা লাল অথবা সাদা। কাঠ টেকসই, সহজে কাজ করা যায়। সেগুনের পরেই গামারি কাঠের স্থান। এই কাঠ আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য বিশেষ উপযোগী। খোদাইয়ের কাজ, তক্তা, বাক্স, চিরুনি, খেলনা গাড়ি, নৌকা এই কাঠ দিয়ে বানানো যায়। এই কাঠের প্লাইউড বেশ ভালো। 

গামারির অনেক ভেষজগুণ রয়েছে। এর ছাল ও কাঠে আছে অনেক তিক্ত পদার্থ ও স্টেরোল। পাতার রসে আছে জীবাণুনাশক শক্তি। কচি পাতার রস গণোরিয়া ও কাশিতে উপকারী। শিকড় কৃমিনাশক ও কুষ্ঠরোগে উপকারী। ক্ষতের পুঁজ বের করে দেয়। ফল চর্মরোগ ও চুল ওঠা বন্ধ  করার  মহৌষধ।