চুয়াডাঙ্গা নেত্রকোনা টাঙ্গাইলে বস্তা বস্তা সরকারি চাল জব্দ

এই করোনাকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকারি চাল লুটপাটের মতো চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনও এসব কাজে জড়িতদের ধরতে তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন স্থান থেকে বস্তা বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ীর দুটি গোডাউন থেকে ১ হাজার ২৬৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে গোডাউন দুটিকে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনিরা পারভীনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঐ গোডাউন                দুটির মালিক চুয়াডাঙ্গা শহরের চাল ও গমের বড়ো ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। রবিবার রাতে তার গোডাউনে সরকারি চাল ট্রাকযোগে আনলোড করা হয়। এর মধ্যে একটি গোডাউনে ৬০০ বস্তা ও অপরটিতে ৬৬৬ বস্তা রাখা হয়। সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদপ্তরের একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় গোডাউন মালিক নজরুল বলেন, চালের মালিক আলমডাঙ্গার অশোক বাবু। তারা মেহেরপুরের গাংনী খাদ্য গোডাউন থেকে চালগুলো নিয়ে আমার গোডাউন ভাড়া করে রেখেছে। তারা চালের বিষয়ে কাগজপত্রও দিয়েছে। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, গোডাউন মালিক নজরুলের কাছে থাকা কাগজ দেখে বোঝা যায় এটা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাবিখার চাল। চুয়াডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, গোডাউন মালিক নজরুলের কথা অনুসারে অশোকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করি। কিন্তু অশোক ও নজরুলের কথার মধ্যে অসংগতি থাকায় গোডাউন দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির বিস্তারিত রিপোর্ট জানার পর সরকারি চালের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, গোপনে পাচারকালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ৩৬ বস্তা সরকারি চাল বোঝাই একটি লরি জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় লরিচালক সাগর মিয়াকে (২২) আটক করে পুলিশ। সাগর পৌর শহরের সাউদপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সোমবার কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক লরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তের পর বলা যাবে সরকারি এই চাল কোন প্রকল্পের এবং এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত। পাচার করা চালের মূল হোতাদের ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার একটি রাইস প্রসেসিং মিল থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৭১ বস্তা চাল আটক করা হয়েছে। জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার চাল ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই চাল কিনে ঐ মিলে প্রসেস করতে দেন। গোপন সূত্রে এ খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা গত রবিবার রাতে ঐ মিলে অভিযান চালান। রাইস প্রসেসিং মিলটি ভৌগোলিকভাবে ধনবাড়ী উপজেলার অন্তর্ভুক্ত জব্দ করা চাল ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের হাওলায় রাখা হয়। ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দিকা জানান, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধনবাড়ী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, জব্দ করা চাল ঐ মিল মালিক সাদিকুল ইসলাম আমিনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। মিলের মালিক সাদিকুল ইসলাম আমিন জানান, তার অনুপস্থিতিতে চাল ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম রবিবার মিলে ঐ চাল রেখে যান। চাল ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম জানান, সরকারি চাল হলেও জনগণের কাছ থেকে তিনি টাকা দিয়ে তা কিনেছেন।

মতলবে ওএমএসের চাল বাজারে বিক্রি শ্রমিক লীগ সভাপতির ডিলারশিপ বাতিল

মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, সরকারের বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) ১০ টাকা কেজি দরের ৩০০ কেজি চাল প্রকৃত কার্ডধারীদের পরিবর্তে বাজারে বিক্রি করার অপরাধে ডিলার উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর সরকার ও তার সহযোগী মাকসুদ পাটোয়ারীকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইউএনও ফাহমিদা হক এই অর্থদণ্ড দেন এবং সেই সঙ্গে জাহাঙ্গীর সরকারের ডিলারশিপ বাতিল করেন।

সূত্রটি জানায়, জাহাঙ্গীর সরকার মতলব বাজারের ( ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ড) সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) ১০ টাকা কেজি দরে চালের অনুমোদিত ডিলার ছিলেন। সোমবার সকালে তিনি ও তার সহযোগী প্রকৃত কার্ডধারীদের বাদ দিয়ে চুরি করে বাজারের তিন ব্যবসায়ীর কাছে এ চাল বিক্রি করেন। এই খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে মতলব বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায় এবং ঐ তিন ক্রেতার দোকান ও বাড়ি থেকে ওএমএসের চাল জব্দ করে।