নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, গত ৬৭ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ জনে দাঁড়ালেও জেলার বিভিন্ন স্থানে করোনা উপসর্গে আরো অনেকের মৃত্যু ঘটেছে যার হিসাব স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। গতকাল দিনভর শহর ঘুরে মনে হয়নি নারায়ণগঞ্জ শহরে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আছে। শহরের সর্বত্র শতশত মানুষের ভিড়ে যানবাহনের সংখ্যাধিক্য সেই সঙ্গে সিংহভাগ মানুষকে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি। নারায়ণগঞ্জে এলাকাবাসী কঠোর লকডাউন চান।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা গতকাল দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৫ জনে, যদিও নারায়ণগঞ্জে করোনার নমুনা পরীক্ষা দেশের অন্য এলাকার মতো একই অবস্থা। আসলে নারায়ণগঞ্জে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা কত তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না কারণ সে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ অবস্থা প্রথম থেকেই ছিল বলে এ জেলাকে শুরুতেই হটস্পট হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
এখন যে তিনটি এলাকায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে সেখানে ঢিলেঢালা ভাব। যদিও জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, এবার কঠোরভাবে সবাইকে ঘরে রাখা হবে। যার লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ৬৬ দিন আগে যখন নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিতে থাকে তখন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ঢিলেঢালা লকডাউনের বদলে কঠোর লকডাউন দাবি করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঘরে থাকার জন্য হাতজোর করে অনুরোধ করেন। মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী একই দিন লকডাউন না দিয়ে কারফিউ দেওয়ার দাবি জানান। সেদিন কঠোরভাবে মানুষকে যদি ঘরে রাখা যেত আর গার্মেন্টস শ্রমিকদের এভাবে আনা-নেওয়া না করত তবে মাত্র ৬৭ দিনের ব্যবধানে ৯০ জনের মৃত্যু হয়তো গুনতে হতো না।
কারণ লকডাউন করার কয়েকটি পরিকল্পনা থাকা উচিত বলে মনে করেন জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ। তিনি জানান, লকডাউন করার আগে তিনটি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। এক, লকডাউন করতে হলে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে তার পূর্বপরিকল্পনা থাকতে হবে। দুই, যে এলাকায় লকডাউন করা হবে ঐ এলাকার জনগণকে ৪৮ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে যাতে তারা জরুরি কেনাকাটা সারতে পারে। তিন, কমিউনিটিকে সংযুক্ত করতে হবে। এভাবে লকডাউন কার্যকর করে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশ সফলতা পেয়েছে। তাই লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে উল্লিখিত তিনটি বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।
করোনা ভাইরাস মোকাবিলার ক্ষেত্রে রয়েছে সমন্বয়ের বড়ো ঘাটতি। এ কারণে চিকিত্সা ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা করোনা রোগীর পাশে যান না। তারা মাস্ক ও পিপিইর মান নিম্নমানের কারণে ভয়ে আছেন। অনেক ডাক্তারও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ইতিমধ্যে করা হয়েছে। তার পরও সাধারণ মানুষ চিকিত্সা পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ অহরহ শোনা যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে লকডাউন নয় সাধারণ মানুষ বুঝে এমন শব্দ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে রেডজোন এলাকা থেকে কোনো অবস্থাতেই বাড়ির বের হতে দেওয়া যাবে না। তবে পাশাপাশি তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব সামগ্রী প্রয়োজন তা জোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যু আরো বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করেন।