সরকার ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ বিতরণে যথাযথ মানিটরিংয়ের তাগিদ দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পনা করে, বিধিমালার মাধ্যমে প্রণোদনার অর্থ দিতে হবে। তা না হলে বৈষম্য বাড়বে এবং অস্থিশীলতা তৈরি হতে পারে। সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে এই প্রণোদনা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সিপিডির উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার ‘সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ও ত্রাণ কর্মসূচির প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে এ কথা বলা হয়। সংলাপে বক্তারা বলেছেন, শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, রপ্তানিসংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পকেও এর আওতায় আনতে হবে। প্রভাবশালীদের চাপে প্রণোদনার ঋণ দেওয়া হলে ক্ষতিকর ফল বয়ে আনবে। খেলাপি ঋণের ওপর চাপ বাড়বে। তাছাড়া স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে। এসময় সিপিডির পক্ষ হতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে এই প্রণোদনার অর্থের মনিটরিং করার সুপারিশ করা হয়।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সংলাপে মূল মূল প্রতিবেদন তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকার যে ১ লাখ ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে তার ৮০ ভাগ আসবে এই ব্যাংকগুলো থেকে; কিন্তু বেশির ভাগ ব্যাংকগুলোরই পর্যাপ্ত অবস্থায় নেই। প্রভাবশালীদের চাপে প্রণোদনার ঋণ দেওয়া হলে ক্ষতিকর ফল বয়ে আনবে। খেলাপি ঋণের ওপর চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, ইন্টারপোল তাদের সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশকে করোনা মহামারির কারণে আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় রেখেছে। ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মনিটরিং কমিটি থাকতে হবে। খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে। প্রণোদনার অর্থ যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে ৪৩ শতাংশ উদ্যোক্তা বলেছেন, এই করোনার কারণে তাদের উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, অর্ডার বাতিল হবার পর কিছু কিছু অর্ডার আবার ফেরত এসেছে। কারখানাগুলো চালু না হলে এটাও আমরা পেতাম না। মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো এমনিতেই ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দুই মাস সুদ আদায় স্থগিত করেছে, এর ফলে ১৬ হাজার কোটি টাকা মুনাফা কমবে ব্যাংকগুলোর। গত অর্থবছর দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলো ২৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এবছর এমনও হতে পারে ব্যাংকিং সেক্টর এবার লসে চলে যেতে পারে।
সিপিডি’র জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ১৫ শতাংশ শ্রমিক তাদের এপ্রিল মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন পেয়েছেন, বাকিরা কেউ আংশিক পেয়েছেন এবং প্রায় ২৭ শতাংশেরও বেশি শ্রমিক অর্ধেকেরও কম বেতন পেয়েছেন কিংবা একেবারে কিছুই পাননি। প্রায় ৬৩ শতাংশ শ্রমিক তাদের বাসাভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি এবং জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৩৫ শতাংশ শ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।