রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় সবজি বাজারের দরপতন হয়েছে। ফলে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া তো দূরের কথা বরং লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের উত্পাদিত শাকসবজি। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। জেলাগুলো হলো—রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী।
রংপুর অঞ্চলের বড়ো কাঁচা তরিতরকারির আড়ত সিটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পানির দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি, তরিতরকারি। সব তরিতরকারির দাম খুবই সস্তা। সবজি ব্যবসায়ী এমদাদুল হক জানান, এবারের মতো এত কম দাম গত ১৫ বছরের ব্যাবসায়িক জীবনে কখনো দেখিনি। প্রতিদিন তাকে কাঁচা সবজি বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে পুঁজিও হারিয়ে ফেলছেন বলে জানান তিনি। অপর ব্যবসায়ী মো. মোজাম্মে হোসেন জানান, পিঁয়াজের দাম আশঙ্কাজনক কমে গেছে এখন ৩০ টাকা কেজি দরে দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হলেও তারও ক্রেতা মিলছে না। তিনি জানান, যার দুই কেজি কেনার কথা তিনি এক কেজি কিনছেন। সাধারণ মানুষের অর্থ সংকটের কারণেই মূলত এই অবস্থা।
সবজি চাষি আনোয়ার হোসেন ও করিম উদ্দিন জানান, আমরা মূলত সবজি চাষ করে জীবিকানির্বাহ করি। কিন্তু এবার আমাদের উত্পাদিত পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। অনেক কম দামেও নেওয়ার কেউ নেই। প্রতি বছর এ সময়টাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার ব্যবসায়ীরা সবজি কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যেত। কিন্তু এবার তারা কেউই আসছেন না। ফলে লোকসানে তাদের উত্পাদিত সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ আলী বলেন, চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম একটু কমেছে, তবে কয়েক দিনের মধ্যে আবার বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।