আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা উঠছে ১৫ জুন

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২১ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল। তারপর থেকে ধাপে ধাপে বেড়েছে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। অবশেষে প্রায় তিন মাস পর আগামী ১৫ জুন প্রত্যাহার হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা। সেদিন থেকে বাংলাদেশে যে কোনো এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে পারবে। শুরুতে ফ্লাইট চলবে লন্ডন, কাতার রুটে। হংকংয়ের সঙ্গেও আলোচনা চলছে ফ্লাইট পরিচালনার। অতঃপর পর্যায়ক্রমে বিশ্বের সব রুটেই চলবে ফ্লাইট। যেসব দেশে করোনার কারণে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব দেশ বাদে বিমান চলবে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, ১৫ জুন উঠে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা। সেদিন থেকে বাংলাদেশ থেকে যে কোনো দেশের ফ্লাইট চলাচলে আর কোনো বাধা রইল না। এখন এয়ারলাইন্সগুলো ঠিক করবে কে কখন ফ্লাইট চালাবে। এটা ভালো খবর। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জারি করবে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে ফ্লাইট চালানোর সময় যাত্রী ও বিমান কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে আমূল বদলে যাবে আকাশপথের রুট। সামজিক দূরত্ব মেনেই যাত্রীদের আসন বণ্টন করা হবে। ফলে যাত্রীদের ভাড়াও বেড়ে যাবে। আড়াই মাস বন্ধ রাখার পর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের ৩৫টি নির্দেশনা জারি করে গত ১ জুন থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। এই ক্ষেত্রে নিজেদের সফল মনে করায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোকাব্বির হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট চালু করা যায় না। একটা ফ্লাইটের অনেক প্রস্তুতি লাগে। এয়ারক্রাফটের যাত্রী সংগ্রহের ব্যাপার আছে। এই মুহূর্তে শুধু লন্ডন আর চীন ছাড়া আর কোনো দেশের এয়ারপোর্ট খোলা নেই। কাজেই অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বেবিচক সূত্র জানায়, বিদেশি অনেক এয়ারলাইন্সই ঢাকায় নিয়মিত সিডিউল ফ্লাইট চালানোর জন্য অনুমোদন চেয়েছে। কয়েকটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ দোহা থেকে ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তবে কাতারে কোনো বাংলাদেশি যাত্রী যেতে পারবেন না। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে থাকায় সেখানে বাংলাদেশির ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ট্রানজিট যাত্রীরা কাতার হয়ে অন্য দেশে যেতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালাতে পারবে। তারপর সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পর্যায়ক্রমে সব রুটেই সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে। গত আড়াই মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অসংখ্য চার্টার্ড ও বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় চলাচল করেছে। একই সঙ্গে কার্গো পণ্য ও ত্রাণসামগ্রী বহনকারী ফ্লাইটগুলোও নিয়মিত বাংলাদেশে চলাচল করছে। মূলত চার্টার্ড ফ্লাইটের চাহিদা থেকেই সিডিউল ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ছাড়া সব দেশের সঙ্গে এবং অভ্যন্তরণীণ রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল বেবিচক। এরপর আরেকটি আদেশে চীন বাদে সব দেশের সঙ্গে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে ১৪ এপ্রিল, ৩০ এপ্রিল, ৭, ১৬ ও ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে চার্টার্ড ফ্লাইট ও কার্গোবাহী ফ্লাইট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও জরুরি অবতরণ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত আছে। প্রায় তিন মাস ফ্লাইট বন্ধ থাকায় অনেক এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হওয়ার পথে। এতে ছাঁটাইয়ের ঢেউ লেগেছে এমিরেটসসহ বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইন্সে। শুধু এমিরেটসই চলতি মাসে ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য বেবিচকের ওপর চাপ বাড়ায় ফ্লাইট চালুর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে অনেক বিদেশি ও অনাবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরবেন। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা কিংবা একসঙ্গে এত যাত্রীকে ম্যানেজ করার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। পর্যটকদের জন্যও গাইডলাইন প্রণয়ন চলছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবার জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করবে। হোটেল-মোটেলসহ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত সব প্রতিষ্ঠানকে এই গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। হোটেল-মোটেল ও পর্যটন গন্তব্যে এই গাইডলাইন ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা-ও মনিটরিং করা হবে।

যশোরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু

হচ্ছে বৃহস্পতিবার

পহেলা জুন থেকে অভ্যন্তরীণ তিন রুটে উড়োজাহাজের ফ্লাইট চালু হলেও গুরুত্বপূর্ণ যশোর ছিল তালিকার বাইরে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, যাত্রীদের করোনা প্রতিরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে চিকিত্সক ও চিকিত্সা সরঞ্জামের সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে যশোরে ফ্লাইট চালু বিলম্বিত হয়। করোনা ভাইরাস মহামারিতে তিন মাস বন্ধ থাকার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হচ্ছে। বেবিচকের চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান গতকাল বলেন, ১১ জুন থেকে যশোর রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে বিমানযোগাযোগ চালু করতে বিমানবন্দরগুলোতে চিকিত্সক ও চিকিত্সা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সাপোর্টটা পাচ্ছিলাম না বলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দিতে পারছিলাম না। সৈয়দপুর এটা নিশ্চিত করেছিল বলে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। যশোরও এটা নিশ্চিত করবে বলে জানানোয় তারা ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি পেল। কক্সবাজার এখন পুরোপুরি লকডাউনে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রবিশাল ও রাজশাহী থেকেও এই সাপোর্টটা পেলে আমরা সেখানেও ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেব। প্রসঙ্গত, বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইট চলছে ১ জুন থেকে।