রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ সময় লাগছে
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামের ল্যাবগুলোতে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় জট লেগেছে। রিপোর্ট পেতে আক্রান্তদের এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগছে। ল্যাবগুলোর দৈনিক ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি নমুনা আসছে। কিন্তু চাহিদা অনুপাতে জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি হতে সময় লাগছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের তিনটি ল্যাবে ১ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষার জন্য মজুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিআইটিআইডিতে ল্যাবের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়। পরে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিআইটিআইডির ল্যাবে প্রতিদিন ৫০০-এর বেশি নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিআইটিআইডি স্থাপিত বুথে প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর বাইরে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো এবং নগরী সিটি করপোরেশন স্থাপিত চারটি বুথ থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা নমুনা বিআইটিআইডির ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এত চাপ বিআইটিআইডির ল্যাব নিতে পারছে না। চাহিদা অনুপাতে ল্যাবে জনবলের সংকট রয়েছে। পরীক্ষা করতে গিয়ে এরই মধ্যে অনেক টেকনিশিয়ান আক্রান্ত হওয়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। ল্যাবে ১০ জন টেকনিশিয়ান রয়েছে। ডাটা এন্ট্রির কোনো লোক নেই। ফলে টেকনিশিয়ানদের পরীক্ষার পর রিপোর্ট তৈরি করে রাতেই ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। বিআইটিআইডির ল্যাবের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডা. জাকির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিদিন বিআইটিআইডির বুথে ২০০-এর বেশি নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। এর বাইরে অন্যান্য স্থান থেকে নমুনা পাঠানোর কারণে জট লেগে যাচ্ছে। যে পরিমাণ জনবল ও মেশিন রয়েছে তা দিয়ে দৈনিক ১২০/১৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু আমরা দৈনিক ২৭৭টি পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করছি। তার পরও বর্তমানে ১ হাজারের মতো নমুনা জমা রয়েছে। এতে রোগীদের রিপোর্ট পেতে তিন-চার দিন লেগে যাচ্ছে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের ল্যাবে জনবল ও পিসিআর মেশিন বাড়ানো প্রয়োজন।’
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবেও দৈনিক ধারণক্ষমতার বেশি নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। এখানে ল্যাবে পিসিআর মেশিন দুটির মধ্যে একটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক আনা হয়েছে। চবিতে এখন করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে। ফলে তাদের কাছ থেকে আনা মেশিনটি ফেরত দিতে হবে। বর্তমানে দুটি মেশিনে দৈনিক ২০০-এর মতো নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান রয়েছে চার জন। তাদের মধ্যে তিন জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালের অন্যান্য প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের টেকনিশিয়ানকে দিয়ে করোনা পরীক্ষার কাজ করানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শামীম হাসান ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের সক্ষমতার অতিরিক্ত নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে জনবল এনে পরীক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। চবি মেশিনটি ফেরত নিলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে।’
এদিকে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে প্রতিদিন করোনার পরীক্ষা হচ্ছে। ল্যাবপ্রধান ড. জুনাইদ সিদ্দিক ইত্তেফাককে বলেন, বিআইটিআইডি থেকে যে পরিমাণ নমুনা পাঠানো হয় তা পরীক্ষা রিপোর্ট দিয়ে দিই। প্রতিদিন ১৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আমরা শিক্ষক ও ছাত্র ৯ জন মিলে নমুনা পরীক্ষা করি। জনবল দিলে পরীক্ষা আরো বাড়ানো সম্ভব। নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট আমরা ঢাকায় পাঠিয়ে দিই।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের চারটি বুথ থেকে দৈনিক ১২০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে।
চট্টগ্রামে উপজেলা থেকে যেসব নমুনা পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হচ্ছে তার রিপোর্ট পেতে বেশি সময় লাগছে। মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগছে।’ ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘রিপোর্ট পেতে ছয়-সাত দিন সময় লেগে যায়।’