নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিএনপির করণীয় নিয়ে শলাপরামর্শ করছেন নেতারা। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাচ্ছেন তারা। হাইকমান্ড কথা বলছে জেলা নেতাদের সাথে। নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীকে আজ বুধবারের মধ্যে ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করবেন দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এইদিন ২৯৯ আসনে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের যারা প্রার্থী ছিলেন তারা নির্বাচন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের হারানো হয়েছে দাবি করে এই ভোট বাতিলের দাবি জানালেও সিইসি কে এম নূরুল হুদা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে প্রার্থীদের কাছে আটটি বিষয়ে তথ্যসহ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, প্রার্থীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ভোটে অনিয়ম-কারচুপির প্রমাণ, প্রতিটি কেন্দ্রের ‘অস্বাভাবিক’ ভোটের হিসাব, গ্রেফতার এজেন্ট ও নেতা-কর্মীদের তালিকা, সহিংসতায় আহত ও নিহতদের তালিকাসহ আটটি বিষয়ে তথ্যসহ একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ভোট কারচুপির ভিডিও থাকলে তাও প্রতিবেদনের সাথে দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ধানের শীষের যেসব প্রার্থী জয়লাভ করেছেন তারা শপথ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণের পক্ষে বলে তাদের একজন নেতা জানান। ড. কামালের মতামত হলো-শপথ গ্রহণের পর তারা নির্বাচনে অনিয়মের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবিষয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের দাবিতে আমরা মাঠে নামব। কঠোর আন্দোলন হবে। এই নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের এই শপথ নেওয়ার কোনও কারণ নেই।
প্রসঙ্গত,একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ৫ জন বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হন। এছাড়া, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন গণফোরামের দুই প্রার্থী।
ঐক্যফ্রন্টের সাথে ইসলামী আন্দোলন বৈঠক করতে চায়
নির্বাচন বাতিলসহ দাবি আদায়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলোচনা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দলটির আমির চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুর্নর্নিবাচনের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাই পীর বলেন, দেশের সচেতন জনগণ এবং যারা দেশের পক্ষে তাদের সঙ্গেই আমাদের ঐক্য হবে। দাবিগুলো এক হলে ঐক্যফ্রণ্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারি।