নওগাঁ-৬ এ বিএনপিতে ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাই

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন কেনার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। গত দুই দিনে নওগাঁর সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ২৯ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। অনেকে ফরম জমা দিয়েছেন এবং আজ বুধবার জমা দিবেন। প্রাথমিক অবস্থায় ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে মনোনয়ন কেনা হলেও মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার সময় অফেরতযোগ্য ২৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলা ৬টি সংসদীয় আসনে বিভক্ত। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি অংশ না নেয়ায় একতরফা ভাবে নির্বাচন হয়। ফলে নওগাঁর সবকটি আসন হারায় বিএনপি। এবার প্রতিটি আসনে বিএনপিতে নতুন মুখের আগমন ঘটেছে। এবার বিএনপিতে অধিকাংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা। যে যার মতো করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলীয় টিকিট পেতে। মনোনয়ন উত্তোলনের সময় সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে দলের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে আপন ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাই মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এক সময় এ দুই উপজেলা জঙ্গি এলাকা এবং বাংলাভাইয়ের অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবির এলডিপিতে যোগ দেন।

এরপর আলমগীরের আপন ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বুলু বিএনপির হাল ধরতে রাণীনগর বালিকা বিদ্যালয়ে বিএনপির আয়োজিত এক সভায় যোগ দেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীর তোপের মুখে পরে আলমগীরের কুশপূত্তলি দাহ করেন। এরপর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস হয় যে, আলমগীরের বিরুদ্ধে তিনি (বুলু)। সে সময় থেকে প্রায় ১০ বছর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু এ দুই উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছিলেন। এ লক্ষ্যে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা ও তৃণমূল নেতাকমীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আলমগীর কবীর এলডিপিতে যোগদানের বছরই আবার পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি কোন দলে যোগদান করেছিলেন না। কিন্তু হঠাৎ করেই তার আলমগীর কবীর পুনরায় বিএনপিতে ফিরে এসেছেন এবং মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। কে পাবে এ আসনের মনোনয়ন টিকিট। এ নিয়ে এলাকায় চলছে জল্পনা-কল্পনা। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র পাবেন তা সময় বলে দিবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি