দল হিসেবে জামায়াতের বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি তদন্ত সংস্থার

সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মো. আব্দুল হান্নান খান জানান, ২০১৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ওপর এখন পর্যন্ত ফরমাল চার্জ গঠন হয়নি। কিংবা ওই প্রতিবেদন আমাদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়নি। এতটি বছর অতিবাহিত হওয়ায় ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সুরাহা প্রত্যাশা করছি। হান্নান খান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ে ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল নানা পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে যেসব আপিল বিচারাধীন তাও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক।

প্রসঙ্গত তদন্ত প্রতিবেদনে মুক্তিযুদ্ধকালে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত ধরনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয় এতে।

এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত সংস্থার প্রধান বলেন, বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যেহেতু বিষয়টি গণমাধ্যমে এসেছে সেজন্য খোঁজ-খবর নেয়া হবে। এছাড়া ২২ জনের ব্যাপারে বিএনপি যে অভিযোগ করেছিলো সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জের মধু মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার মধু মিয়া তালুকদার ওরফে মধু মিয়ার (৬৬) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থা। মধু মিয়া বানিয়াচং থানার মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির সমর্থক। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। তবে এই মামলার অপর আসামি পলাতক থাকায় তার নাম প্রকাশ করেনি সংস্থা। মধুর বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণসহ ৫টি অভিযোগ এনেছে সংস্থা।