৫০০ শয্যার হাসপাতাল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে মেয়রের চিঠি
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
সিলেটে বাড়ছেই করোনা রোগীর সংখ্যা। কিন্তু সংকট চলছে আক্রান্তদের চিকিত্সাব্যবস্থায়। বিভাগীয় শহরের করোনা ডেডিকেটেড ১০০ শয্যার শহীদ ডা. সামসুদ্দিন আহমদ করোনা হাসপাতালেও সিট নেই। যদিও নগরীর বেসরকারি দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আখালিয়ায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে করোনা চিকিত্সা শুরু করেছে। কিন্তু প্রাইভেট চিকিত্সায় ব্যয় বেশি বিধায় সিলেটের সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। তারা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা চিকিত্সা না পেলে সাধারণ বহু মানুষ মারা যাবে। এদিকে সিলেটের জন্য ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর ইমেইল করেছেন গতকাল বুধবার। ইমেইলে বলা হয়, সিলেটে এই মুহূর্তে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল সরকারি ব্যবস্থাপনায় না হলে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। মেয়র আরিফ মনে করেন, সিলেটের পুরোনো কারাগারকেও করোনা হাসপাতাল করা যেতে পারে। আর তা হলে সিটি করপোরেশন বেড সরবরাহ করবে।
এদিকে বেশ আগে করোনা চিকিত্সার জন্য সিলেটে বেসরকারি দুটি হাসপাতালকে সরকারিভাবে অধিগ্রহণের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সূত্র জানায়, ৩০০ শয্যার সিলেট নর্থ-ইস্ট হাসপাতালটি অধিগ্রহণের বিষয়টি অনেকটাই এগিয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আগ্রাহ ছিল ক্রান্তিলগ্নে সেবা দেওয়ার। কিন্তু সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি বলে আপাতত অধিগ্রহণ থমকে আছে। তবে হাল ছাড়েননি সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। করোনা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত সিলেটের রোগীদের জন্য ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চেয়ে দুই মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বরাবর ইমেইলে চিঠি পাঠান মেয়র।
চিঠিতে বলা হয়, শুরু থেকে ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সরকারিভাবে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে সরকারিভাবে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল এখন প্রয়োজন। এটি হতে পারে সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালকে একীভূত করে সরকারিভাবে চিকিত্সাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে। চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিত্সা ব্যয় নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সহনীয় নয়। তাই সরকারি চিকিত্সাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। তা না হলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, সিলেটের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র সিলেটের জন্য ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চেয়ে দুই মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিলেটে এই মুহূর্তে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল না হলে করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।