এপিডেমিক ও প্যানডেমিক

এপিডেমিক (মহামারি) ও প্যানডেমিক (বিশ্বমারি)— এদের একটির বিস্তৃতি সসীম এবং অন্যটির অসীম। একটি নির্দিষ্ট দেশের মানুষের মধ্যে প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়লে এরূপ পরিস্থিতিকে এপিডেমিক বলা হয়। আর এটি যদি কোনো একটি দেশে শুরু হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তাকে বলতে হবে প্যানডেমিক। যেমন কোভিড-১৯ ভাইরাস চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে উদ্ভব হয়ে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যুগে যুগে অনেক এপিডেমিক ও প্যানডেমিকের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০ অব্দে গ্রিসের এথেন্স শহরে প্লেগ এপিডেমিকের প্রাদুর্ভাব ঘটলে সপার্টানদের সঙ্গে যুদ্ধরত হাজার হাজার গ্রিক সৈন্য কয়েকদিনের মধ্যে প্রাণ হারায়। ৫৪০-৪১ খ্রিস্টাব্দের দিকে মিশরে এক ভয়ানক প্লে­গ এপিডেমিকে মারা যায় অসংখ্য লোক। ১৭১৩ সালে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া নগরে ইয়েলো ফিভার এপিডেমিকে ৪৫ হাজার মানুষ মরে। ১৮৬০ সালে চীনে প্লে­গের প্রাদুর্ভাব ঘটে যা ক্রমান্বয়ে ভারত, আফ্রিকা, ইকুয়েডর এবং যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্যানডেমিকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ১৯১৮ সালে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে তখন বিশ্বে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিকে বিরাট মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে শনাক্ত হওয়া এইচআইভি বা এইডস রোগে বিশ্বজুড়ে অর্থাত্ প্যানডেমিকে মারা গেছে আড়াই কোটির বেশি মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড-১৯ প্যানডেমিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইটালি, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স, স্পেন প্রভৃতি উন্নত দেশে অসংখ্য লোক মারা গেছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে অগণিত লোক। বাংলাদেশ ও ভারতেও মারা যাচ্ছে মানুষ। আমাদের মতে, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত এপিডেমিক বা প্যানডেমিকের মতো দুটি মারাত্মক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে গবেষণা ও প্রতিষেধক তৈরির কাজ চলমান থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তানভীর আহমেদ, হাজী মো. আলী বশির, মাহবুব আলী

আগাসাদেক রোড, ঢাকা