ব্রিস্টলের দাস ব্যবসায়ী কলস্টনের মূর্তি সরিয়ে ফেলার তাত্পর্য কী

বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যেও

মিনিয়েপোলিসে পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরে এরকমই এক বিক্ষোভের সময় প্রতিবাদকারীরা সেই শহরের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত সপ্তদশ শতাব্দীর বিতর্কিত ক্রীতদাস-ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টনের মূর্তি টেনে নামিয়ে তা নদীতে ফেলে দিয়েছে। এই ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলার জন্য অনেক দিন ধরেই ব্রিস্টলের বহু লোক দাবি জানাচ্ছিলেন; কিন্তু এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, অনেকে দাবি তুলছেন, ব্রিটেনে নানা জায়গায় বর্ণবাদ ও দাস-ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো অনেকের যেসব ভাস্কর্য আছে, সেগুলোও অপসারণ করতে হবে।

অনেকেই হয়তো ভাবছেন, কে এই এডওয়ার্ড কলস্টন, কেন তার ভাস্কর্যটি ব্রিস্টল শহরের মানুষের মধ্যে এমন ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল? আসলে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের অ্যাভন নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা ব্রিস্টল শহরটির বিকাশ ও সমৃদ্ধির ইতিহাসের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দাসব্যবসা। সেই দাসব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অ্যাডওয়ার্ড কলস্টনের নাম। ব্রিস্টল শহরে কয়েক শতাব্দী ধরে তার স্মৃতিকে সম্মানিত করা হয়েছে। ব্রিস্টলের এক বণিক পরিবারের সন্তান কলস্টন ছিলেন একজন ধনী ব্যক্তি এবং তার সম্পদ তিনি গড়ে তুলেছিলেন মানুষের উত্পীড়ন ও দুর্দশার ওপর ভিত্তি করে।

১৬৭২ থেকে ১৬৮৯ সাল পর্যন্ত কলস্টনের জাহাজে করে প্রায় ৮০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ, নারী ও শিশুকে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই কৃষ্ণাঙ্গদের কেনা হতো পশ্চিম আফ্রিকা থেকে। তাদের গায়ে সিল মারা হতো আর এ সি কোম্পানির নামে। তারপর তাদের আমেরিকাগামী জাহাজে তোলা হতো। এক একটি জাহাজে যত লোক নেওয়া হতো তাদের ১০ থেকে ২০ শতাংশ আমেরিকায় পৌঁছানোর আগেই রোগ, আত্মহত্যা বা হত্যার কারণে জাহাজেই মারা যেত। আমেরিকায় দাস পাঠানো ছাড়াও লন্ডনে কলস্টনের ছিল কাপড়, মদ ও চিনির ব্যবসা। তিনি মারা যান ১৭২১ সালে এবং কলস্টন অ্যাভিনিউতে তার ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৫ সালে।

ব্রিস্টলের বাসিন্দা কবি মাইলস চেম্বার্স বলেন, ব্রিস্টেলের নগরকেন্দ্রে কলস্টনের মূর্তি তাকে সব সময়ই এই লোকটির অমানবিকতার কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘কিছু লোক আছে যারা বুঝতেই পারে না যে, সেই দাসত্বের প্রভাব এখনো কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গরা তাদের জীবনে অনুভব করে। আমরা দেখি দাসদের উত্তরসূরিরা অর্থনৈতিকভাবে এখনো দরিদ্র, মানসিকভাবে তারা নিজেদের নিকৃষ্ট বলে অনুভব করে তারা পড়াশোনায় ভালো করতে পারছে না, কাজ পাচ্ছে না বা পেলেও কম বেতন পাচ্ছে।’ চেম্বার্স বলেন, কলস্টনের মূর্তি সরিয়ে ফেললেই বা কিছু নাম বদলে ফেললেই বর্ণবাদ বা দাস-মনোবৃত্তি পালটে যাবে না; কিন্তু তখন কৃষ্ণাঙ্গদের উদ্দেশে এটা বলা সহজ হবে যে ‘তোমরা আমাদের সমান, তোমরা ব্রিটিশ, তোমাদের মূল্য আছে এবং তোমাদের সঙ্গে অন্যদের কোনো পার্থক্য নেই।’