একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনে কমিশনের ব্যাপকভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হতে পারে। উপজেলা পরিষদ আইন অনুসারে ইতোমধ্যেই এ নির্বাচনের সময় শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শুরুতে মাসব্যাপী এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, গতবারের মতো এবারো কয়েকধাপে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। মার্চ মাসে নির্বাচন গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে।
উপজেলা পরিষদ আইন অনুসারে উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে এবং নতুন গঠিত উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলা গঠনের পর ৩৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্টরা বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার করার। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হতে পারে। গতবারের উপজেলা নির্বাচন আইনত নির্দলীয় হলেও এবার হবে দলীয় প্রতীকে। সে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকে উপজেলা পরিষদের প্রার্থী মনোনয়নের এক বিশাল কর্মযজ্ঞও শুরু করতে হবে।
এদিকে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথবারের মতো ছয়টি আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম-এ কারিগরি সমস্যা দেখা দেয় এবং ফলাফল প্রকাশেও বিলম্ব হয়। বিশেষ করে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ফলাফল প্রকাশে দেরি হয়। কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসারের অফিসে ইভিএমগুলো নিয়ে যাওয়ার পর রিটার্নিং অফিসার সেগুলো বুঝে নেন। এরপর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়। আর কয়েকটি মেশিনে সমস্যা হয়েছিল ভুল করে ভোট শেষ হওয়ার বাটনে চাপ দেওয়ার কারণে। যে কয়েকটি মেশিনে এ সমস্যা হয়েছিল সে মেশিন কয়টিতে আবার কার্ড রিপ্লেস করে চালু করা হয়।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নির্বাচনের পর দেশের প্রায় ৫০০ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি কমিশন আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে।