বাগেরহাট ও দাউদকান্দিতে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ১৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮ জন বাগেরহাটের ও বাকিরা দাউদকান্দির। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাট-২ আসনের সদর উপজেলার ডেমা করামাতিয়া মাদ্রাসার সামনে সোমবার রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকান ও মাছের ডিপো ভাঙচুর-লুটপাট করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নৌকা প্রার্থীর ভোট কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবসহ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ৪ নেতাকর্মীকে রাতেই বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বিএনপি কর্মীরা অজ্ঞাত স্থানে চিকিত্সা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি ইজিবাইকে চড়ে ডেমা করামাতিয়া মাদ্রাসার সামনে এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের বন্ধ থাকা ৪টি দোকান ও একটি মাছের ডিপোতে ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা তালা ভেঙে রুবেল, লালন, সোহাগ ও মিন্টুর দোকান ও সজিবের মাছের ডিপোর মালামাল লুটপাট করতে থাকে। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তবে, সংঘর্ষে আহত মো. আব্দুল ওহাব শেখ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনো দোকান ভাঙচুর, লুটপাট বা মারপিট করেননি। তারাই বরং হামলার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও ইউপি সদস্য সজিব তরফদার মোবাইল ফোনে বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে থেকেই পুলিশি হয়রানি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর-লুটপাট করতে গিয়ে এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের দাউদকান্দি পৌর সদরসহ বিভিন্ন গ্রাম, দাউদকান্দি উপজেলার দাউদকান্দি (উত্তর), গোয়ালমারী, সুন্দলপুর, দৌলতপুর ও ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সুন্দলপুর ইউনিয়নের বড় গোয়ালী বাজারে ৩টি দোকান ও চকমখোলা গ্রামে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে হামলাকারীরা ২ জনকে আহত করে। এছাড়া তারা ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়নের বাসরা গ্রামে প্রায় ২৫টি বাড়িতে হামলা চালায়। এতে ৪ জন আহত হয়। তারা ইলিয়টগঞ্জ বাজারে ৫টি দোকানও বন্ধ করে দেয়। এসব বিষয়ে দাউদকান্দি থানার ওসি আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।