একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে জামানত হারিয়েছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তিন প্রার্থীসহ ২৯ জন প্রার্থী। মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা আট ভাগের একভাগের নিচে ভোট পাওয়ায় তারা জামানতের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থীসহ সাতজন, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ধানের শীষের প্রার্থীসহ তিনজন, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে ধানের শীষের প্রার্থীসহ সাতজন, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ছয়জন, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে ছয়জন জামানত হারিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলের ৩৬ জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জমিয়তে ইসলামের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এসএম আকরামের জামানত টিকে আছে। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা আট ভাগের একভাগের নিচে ভোট পেলে তিনি জামানত হারাবেন। ফলে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সরকারের ঘরে জমা দেওয়া জামানতের অর্থ ফেরত পাবেন না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯১ জন। সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৪টি। ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৯ ভোট পেয়ে মহাজোট প্রার্থী নৌকা প্রতীকের গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এমপি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ধানের শীষের কাজী মনিরুজ্জামান মনির ১৬ হাজার ৪৩৪ পেয়েছেন। অত্র আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮ ৬৭ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৬২৪ ভোট। নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবু ২ লাখ ৩২ হাজার ৭২৩ ভোট, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ পেয়েছেন ৫ হাজার ১১১ ভোট। অত্র আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ১১৮টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ৮৭২ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫১৪। লাঙ্গল প্রতীকে মহাজোটের মনোনীত জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৭ ভোট। অত্র আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৫১ হাজার ৯৯জন। ভোট পড়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৬৭৬। নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষ পেয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতী মনির হোসেন কাসেমী পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৫৮২ ভোট। অত্র আসনে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে ১৭১ ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬১৬ জন। ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৪। লাঙ্গল প্রতীকের মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এস এম আকরাম পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৫২ ভোট। অত্র আসনে লাঙ্গল ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।