গাজীপুরে নির্বাচনের দিন যুবলীগ নেতা হত্যা ঘটনায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হাড়িনাল এলাকায় নির্বাচনের দিন যুবলীগ নেতা মোঃ লিয়াকত হোসেন (৪৫) নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই আইয়ুব রানা গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের সদর থানায় মামলাটি করেন। পুলিশ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৮ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, মো: ফাহিম রেজা, মো: সাব্বির, মো: সাগর চৌধুরী, মো: রাসেল, আহমেদ হোসেন , মোর্শেদুল কবির শিপন ও মশিউর রহমান জুয়েল। তাদের বাড়ি সিটি করপোরেশনের হাড়িনাল, বাঙ্গালগাছ, বরুদা ও দক্ষিণছায়াবীথি এলাকায়।

বাদী আইয়ুব রানা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, লিয়াকত হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যাবত্ সম্পৃক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গাজীপুর জেলা শহরের কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং জেলা ছাত্র লীগের সাবেক ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন উপলক্ষে লিয়াকত তার বন্ধু খাইরুল, আশরাফকে সাথে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে হাড়িনাল হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রের ২০০গজ উত্তরে রেজাউল করিমের বাড়ির সামনে রাস্তায় পৌঁছলে পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভারে তাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে লিয়াকতসহ ওই তিনজনকে আহত করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে হামলাকারীরা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত লিয়াকত ও আশরাফকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়। লিয়াকতের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরার লেকভিউ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক লিয়াকতকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আশরাফ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে বিভিন্নস্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।