চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী

সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটুপানি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চরম অব্যবস্থায় বিসিক শিল্পনগরী। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে। এতে ফ্যাক্টরি মালিক ও শ্রমিকসহ ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিসিক শিল্পনগরী অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিসিক শিল্পনগরী চৌদ্দগ্রামে ৮৩ প্লটের মধ্যে ৬৭টি ফ্যাক্টরি অবস্থিত। এরমধ্যে ৫১ ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে। পাঁচটি ফ্যাক্টরি চালুর জন্য নির্মাণকাজ চলছে। বন্ধ রয়েছে ১১টি ফ্যাক্টরি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিসিক শিল্পনগরীর সড়কগুলোতে অসংখ্য গর্ত রয়েছে। গর্তে জমে আছে হাঁটু পরিমাণ পানি। কোনো কোনো স্থানে কাদা জমে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ফ্যাক্টরিগুলোর বর্জ্য বিসিক থেকে বাইরে যাচ্ছে না। সড়কের ড্রেন ভরাট হয়ে আগাছা উঠে গেছে। এছাড়া বিসিকের চারপাশে নেই দেওয়াল। ফলে প্রতিরাতেই চোরের উত্পাত চলছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র একটি মবিল ফ্যাক্টরির অফিসের চেয়ার-টেবিল পর্যন্ত চুরি করে নিয়েছে।

বিসিকের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ফ্যাক্টরির সিলিকন যত্রতত্র সড়কে ফেলে রাখায় ড্রেন ভরাট হয়ে পড়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হেঁটে যাতায়াতের সময় পায়ে পানি লাগলে কিছুদিন পর পা ক্ষত হয়ে যায়। বিসিক অফিস থেকে বারবার বললেও সিলিকন সরানোর ব্যবস্থা করেনি। মোশারেফ হোসেন নামের এক জন অভিযোগ করেন,‘এস্টেট অফিসারের সঙ্গে আমরা সমস্যার কথাগুলো শেয়ার করতে পারছি না।’

বিসিকের ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান কোম্পানি বলেন, ‘বিসিক থেকে সড়কের কোনো উন্নয়ন না করায় আমরা নিজস্ব উদ্যোগে ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ করে ইট ফেলে উন্নয়ন করেছি। কিন্তু স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়কের উন্নয়ন না করায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে’। ব্যবসায়ী নুর হোসেন বলেন, ‘বিসিক সড়ক ও ড্রেনেজ সংস্কার না করায় ভোগান্তির কারণে কোনো ভালো ব্যবসায়ী এখানে আসতে চায় না। ফলে আমাদের প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

বিসিক শিল্পনগরীর ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম হাসান আসিফ চৌধুরী বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘বিসিকের সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে শেষ করা হবে। তবে কিছুদিনের মধ্যে সড়কের উন্নয়নে টেন্ডার হবে বলে আশা করছি।’