প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটা খুব বাস্তবসম্মত নয় বলে উল্লেখ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তাত্ক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে যে রাজস্ব আদায়ের কথা বলা হয়েছে, তাতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। এই রাজস্ব লক্ষ্য যদি পূরণ না করা যায়, তাহলে এই যে বড়ো আকারের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি জোর দেওয়া উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন সংগতিপূর্ণ কি না সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য মানে হলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। কিন্তু আমরা দেখছি যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি, বিশেষ করে সংক্রমণের মাত্রা আরো বাড়ছে। মৃত্যুর সংখ্যাও আরো বাড়ছে। কবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবে চালু করা যাবে সেটি নিয়ে একটি বড়ো প্রশ্ন রয়ে গেছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে বড়ো ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
এ বছরের বাজেটের লক্ষ্য হওয়া উচিত কোভিড-১৯ মহামারির ফলে যে স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির যেসব অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে সেগুলো মোকাবিলা করা। সেইসঙ্গে অর্থনীতির যে গতিধারা ছিল সেটি ফিরিয়ে আনা। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু সেটি যথেষ্ট কি না সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। কারণ, আমরা যে বড়ো ধরনের স্বাস্থ্যগত সংকট দেখছি সেটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ফলাফল। ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না ঘটলে, এই বর্ধিত বরাদ্দ সত্যিকার অর্থেই কতটুকু কার্যকরী হবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে, এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু এর বড়ো অংশ ব্যয় হবে পেনশন-ভাতার জন্য। সুতরাং প্রকৃত অর্থে বরাদ্দ কতটুকু বেড়েছে? সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ আরো বেশি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সংকট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যেটি খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু, সংকটগ্রস্ত ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজ কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে সেটিরও একটা পথনির্দেশিকা বাজেটে থাকা দরকার।