প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় রচিত এই বাজেটের হাত ধরেই অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে পূর্বের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপনে তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই বাজেট ভবিষ্যতের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ভিত রচনা করবে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা। পাশাপাশি মানুষের অন্ন বস্ত্র যোগানের জন্য অর্থনীতির চাকাও সচল রাখা।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছেন, তাদের বিশ্বাস ও মনোবলের জায়গাটি অটুট রাখতে। কারণ তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন জীবন সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, থেমে থাকার জন্য নয়। যে অমানিশার অন্ধকার আমাদের চারপাশকে ঘিরে রেখেছে, তা একদিন কেটে যাবেই। ইতিহাস সাক্ষী, বাঙালি জাতি শৌর্যবীর্যের এক মূর্ত প্রতীক। জাতীয় জীবনে কালক্রমে যে সব সংকট ও দুর্যোগ এসেছে, বাঙালি জাতি সম্মিলিত শক্তির বলেই সেসব থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। জাতির পিতার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয় অর্জন করেছি। তেমনি প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সবাই এক পরিবার হয়ে, একে অপরের সাহায্যে করোনা ভাইরাস যুদ্ধেও আমরা জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ। এই ক্রান্তিকালে বিভ্রান্ত, ভীত বা আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের ধৈর্য এবং সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।
বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর পরিবারসহ শহিদদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি জেলখানায় শহিদ জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতাযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা-বোনসহ স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের স্বরণ করেন। একই সাথে কভিড-১৯ এ প্রাণ হারানো সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বক্তৃতায় শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করে জনসমাগম এড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদ্যাপিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ সবার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আলোকবর্তিকা নিয়ে জাতির পিতার দেখানো পথে মানুষের জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বছর জাতির জন্য বিশেষ একটি বছর। আমরা সবাই পুরোপুরি আত্মপ্রত্যয়ী ছিলাম; এ বছর আমরা অর্থনীতিতে সেরা প্রবৃদ্ধি জাতিকে উপহার দিবো। এক্ষেত্রে আমাদের (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) ইপ্সিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আমরা শুরুও করেছিলাম সুন্দর আশাদীপ্তভাবে অসাধারণ গতিতে। অর্থবছরের প্রথম আট মাস পর্যন্ত যখনো আমরা করোনায় বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হইনি, আমরা অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। পৃথিবীর প্রখ্যাত থিংকট্যাংক ও গণমাধ্যমসমূহ আমাদের প্রশংসায় ছিল পঞ্চমুখ। কিন্তু দুঃখের বিষয় করোনার প্রভাব সারা বিশ্বের অর্থনীতির হিসাব-নিকাশকে সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এই সংকট আসছে অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পরিশেষে তিনি সুরা আল বাক্বারাহ’র ১৫৫ নম্বর আয়াত দিয়ে বাজেট বক্তৃতা শেষ করেন।