একদিনে আরো ৩৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৯ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ হাজার ১৮৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৫২ জন। সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরো ৮৪৮ জন। সবমিলে এ পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৭৪৭ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বৃহস্পতিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, সাত জন নারী। তাদের ২৮ জন হাসপাতালে ও ৯ জন বাড়িতে মারা যান। তাদের ২০ জন ঢাকা বিভাগের, সাত জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিন জন সিলেট বিভাগের, চার জন রাজশাহী বিভাগের, দুই জন বরিশাল বিভাগের এবং এক জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এই ৩৭ জনের এক জনের বয়স ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ২২ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, আট জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, চার জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দুই জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
বুলেটিনে জানানো হয়, সারাদেশে ৫৫টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৭৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২১ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৩২টি।
গত বুধবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জন মারা গেছেন। ১৫ হাজার ৯৬৫টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরো ৩ হাজার ১৯০ জনের মধ্যে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সেই হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত কমলেও মৃত্যু হয়েছে সমান সংখ্যক। দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪৫ জনের মৃত্যুরও রেকর্ড আছে, যা গত ৯ জুনের বুলেটিনে জানানো হয়। বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৬৭১ জনকে এবং এ প?র্যন্ত আই?সো?লেশনে নেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৭ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৫৫ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৮ হাজার ৭৬৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ১৬১ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৩৪৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৮৭৩ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৮ হাজার ৯৯৯ জন। বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজের সুরক্ষা নিজের হাতে।