প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে এখনই ভাবছে না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে পাঠ্যবই থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে এ কারণেই নানা উদ্যোগ নিচ্ছে এই সংস্থাটি। করোনার সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে আরো পরে সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ। তিনি ইত্তেফাককে আরো জানান, ‘সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে। তবে সেটা এখনই নয়। শিশুদের বাড়তি কোনো চাপ না দিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংসদ টেলিভিশনে পাঠদান চলছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে জুমে মিটিং করছেন। রেডিওতেও পাঠদান দ্রুত শুরু হবে। পাশাপাশি শুরু হচ্ছে মোবাইলে শ্রেণিপাঠ ও শিক্ষা পরামর্শ সেবা। এ সেবা চালু করতে একটি মডিউলও তৈরি করা হয়েছে। আমাদের কাছে থাকা সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর ঐ হেল্পলাইনে যুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিচিতিও সেখানে থাকছে।’ তবে করোনা দুর্যোগে সংক্রমের উদ্যোগের পাশাপাশি সমাপনী পরীক্ষা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে অভিভাবকদের। তারা বলছেন, পাঠদান ঠিকমতো হচ্ছে না। বাড়িতে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে শিশুরা। এরপরও যদি প্রাথমিক সমাপনী যথাসময়ে নেওয়া হয় তা হলেও তো পরীক্ষা নিয়ে ভীতি থাকবেই। তারা এ বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা এখনই চান।
মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের বলেছি স্কুলে যে পর্যন্ত পাঠদান হয়েছে এবং টেলিভিশনে যতটুকু হয়েছে তার ওপর প্রশ্ন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এই প্রশ্নের আলোকে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে পরীক্ষার চর্চা করতে পারবে। যার পক্ষে সম্ভব তিনি এটা করবেন। এটা অফিসিয়াল কোনো আদেশ নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ করার কৌশল মাত্র।’ সূত্র জানায়, সংসদ টেলিভিশনে পাঠ সম্প্রচারে দেশের ৫০ ভাগ শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে। তবে মোবাইলের মাধ্যমে অন্তত ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাছে শিক্ষা পরামর্শ ও শ্রেণিপাঠ পৌঁছানো সম্ভব হবে। বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর-৩৩৩৬-এ ফোন করে ভালোমানের শিক্ষকদের কাছ থেকে শ্রেণিপাঠ ও পরামর্শ নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এতে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত ফ্রিতে কথা বলা যাবে। এর আগে চার মিনিটে একটি সংকেত পাবে। সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই হেল্পলাইন নম্বরে যুক্ত থাকবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সম্মিলিত উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।