রাজশাহী শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। প্রথমদিকে শুধু বাইরে থেকে আসা মানুষের দেহে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এখন শহর ছেড়ে কোথাও যাননি, এমন মানুষেরও করোনা শনাক্ত হচ্ছে। শহরজুড়ে মানুষের মাঝে কমছে সচেতনতা। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি। ফলে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানান, জেলা ও মহানগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা ১১৬ জন। নগরীতে এ সংখ্যা ৩৮ জন, বাকিরা জেলার বিভিন্ন থানার। এদের মধ্যে মারা গেছেন তিন জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন। শহরে সুস্থ হয়েছেন পাঁচ জন। নগরীর বাইরে বাঘা উপজেলায় ৯, চারঘাটে ১২, পুঠিয়ায় ১১, দুর্গাপুরে ৪, বাগমারায় ৯, মোহনপুরে ৯, তানোরে ১৫, পবায় আট ও গোদাগাড়ীতে এক জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখনো ৮০ জন করোনার সঙ্গে লড়ছেন।
সিভিল সার্জন জানান, গত ১২ এপ্রিল পুঠিয়ায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম দিকে শুধু বাইরে থেকে আসা লোকজনের মধ্যেই করোনার সংক্রমণ সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে অনেকেই শনাক্ত হচ্ছেন, যাদের কোনো ভ্রমণের তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে স্থানীয়ভাবে করোনার সংক্রমণ শুরু হলেও নগরীতে মানুষের মাঝে কমছে সচেতনতা। নগরীতে অনেকেই মাস্ক নাক-মুখের নিচে নামিয়ে রাখছেন। সামাজিক দূরত্ব ঠেলে গাদাগাদি করে অটোরিকশায় চলছেন। গোটা শহরই এখন লোকে-লোকারণ্য। মোড়ে মোড়ে মানুষের সচেতনতা কম। মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। অন্যদিকে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত নগরীতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সচেতনতা বৃদ্ধিতে শুরু হয়েছে জরিমানা।
জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, মাস্ক না পরাসহ অন্যান্য অপরাধে বৃহস্পতিবার জেলা জুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৬৫টি মামলায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ৭ হাজার ৫৬০ পিস মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।