নীলফামারীতে হাবিবা আকতার শারমিন হত্যাকাণ্ডে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে শারমিনের স্বামী মমিনুর রহমান ও শ্বশুর লাল মামুদ। বৃহস্পতিবার বিকালে নীলফামারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জাহিদ হাসানের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, এক বছর আগে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার কুষ্ণপুর গ্রামের হাবিল শেখের মেয়ে হাবিবা আকতার শারমিনের সঙ্গে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় যৌতুকে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মমিনুরের। বিয়ের সময় ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ৪০ হাজার টাকার জন্য প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ লেগেই থাকতো তাদের মধ্যে। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শারমিনকে শ্বশুর লাল মামুদ পা চেপে ধরে এবং মমিনুর খাটের রোলার দিয়ে পায়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে বড়ো স্টিলের মগ দিয়ে শারমিনের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে উত্তরা ইপিজেড এলাকায় মারা যায় শারমিন। বিষয়টি বুঝতে পেরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে পালিয়ে যায় মমিনুর।
পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান বলেন, যৌতুকের বকেয়া ৪০ হাজার টাকার জন্য ঘটনার দিন শারমিনকে বিষপানজনিত কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অথচ বিষপানের কোনো চিহ্ন ছিল না তার শরীরে। বিষয়টির রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে এবং মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করা হয়।